জয়পুর, ২৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারত ও আমেরিকার মধ্যে প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের শক্তির প্রতিফলন ঘটায় দ্বিপাক্ষিক সামরিক মহড়া ‘যুদ্ধ অভ্যাস’। বৃহস্পতিবার রাজস্থানের মহাজন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ভারতীয় ও মার্কিন সেনার যৌথ প্রশিক্ষণ প্রত্যক্ষ করে এই মন্তব্য করেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর।
মহাজন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে দুই দেশের সেনাদের একসঙ্গে প্রশিক্ষণ নিতে দেখে নিজের এক্স পোস্টে সার্জিও গোর বলেন, এই মহড়া দুই দেশের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের শক্তি, পারস্পরিক আস্থা, প্রস্তুতি, আন্তঃকার্যক্ষমতা এবং অভিন্ন লক্ষ্যের প্রতিফলন। ভারতীয় সেনা ও মার্কিন সেনা একসঙ্গে যে সক্ষমতা অর্জন করছে, তার জন্য তিনি গর্বিত বলেও জানান।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাজস্থানে পৌঁছে দ্বিপাক্ষিক এই মহড়ায় ভারতীয় ও মার্কিন সেনার সদস্যদের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ নিতে দেখেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহড়ায় দুই দেশের সেনারা সমন্বিত অনুশীলন, সমন্বিত যুদ্ধপ্রক্রিয়া এবং যৌথ অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এর ফলে পারস্পরিক বোঝাপড়া, অপারেশনাল সমন্বয়, আত্মবিশ্বাস এবং বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
ভারতীয় সেনার অতিরিক্ত জনসংযোগ শাখা জানিয়েছে, ‘যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬’-এ পাহাড়ি ও মরুভূমি অঞ্চলে সমন্বিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভারতীয় ও মার্কিন সেনার আন্তঃকার্যক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ছোট অস্ত্রের ফায়ারিং, আর্টিলারি আক্রমণ থেকে শুরু করে দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবস্থা এবং অ্যাটাক হেলিকপ্টার পরিচালনা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ প্রশিক্ষণ চলছে।
‘যুদ্ধ অভ্যাস’-এর ২২তম সংস্করণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ১৫ সেপ্টেম্বর উত্তরাখণ্ডের আউলিতে অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে উত্তরাখণ্ডের আউলি এবং রাজস্থানের মহাজন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে এই মহড়া পরিচালিত হচ্ছে। দুই দেশের ৬০০ জন করে মোট ১,২০০ সেনা এতে অংশ নিচ্ছেন।
মহড়ার মূল লক্ষ্য হল পাহাড়ি ও আধা-পাহাড়ি অঞ্চলে ইন্টিগ্রেটেড ব্যাটল গ্রুপ মোতায়েনের জন্য ভারতীয় ও মার্কিন সেনার যৌথ সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এর পাশাপাশি আন্তঃকার্যক্ষমতা বাড়ানো, সেরা অপারেশনাল পদ্ধতি বিনিময় এবং যৌথ পরিকল্পনা ও অভিযান পরিচালনার দক্ষতা শক্তিশালী করাও এই মহড়ার অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহড়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। নজরদারি ও রেকনাইস্যান্সের জন্য ড্রোন এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। মহাজন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে আধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থার প্রদর্শনও করা হবে।
দুই দেশের সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞরা উদীয়মান প্রযুক্তি এবং মাল্টি-ডোমেন যুদ্ধের বিভিন্ন দিক নিয়েও মতবিনিময় করবেন। বিভিন্ন ভূখণ্ড ও অপারেশনাল পরিস্থিতিতে সমন্বিত সামরিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে দুই দেশের সেনাদের কৌশল, প্রযুক্তি ও কার্যপদ্ধতি বিনিময়ের সুযোগ করে দিচ্ছে এই মহড়া। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ‘যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬’ শেষ হওয়ার কথা।
—আইএএনএস



















