নিউইয়র্ক, ২৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের প্রতি ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বিদেশ মন্ত্রকের সচিব (পশ্চিম) সিবি জর্জ। একইসঙ্গে ‘রাইট টু ডেভেলপমেন্ট’ বা উন্নয়নের অধিকার সংক্রান্ত চুক্তি দ্রুত গ্রহণের পক্ষে ভারতের সমর্থনের কথাও জানান তিনি।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে ‘ডিক্লারেশন অন দ্য রাইট টু ডেভেলপমেন্ট’-এর ৪০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ভারতের জাতীয় বিবৃতি পেশ করার সময় সিবি জর্জ এই মন্তব্য করেন।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ জানান, সিবি জর্জ জাতীয় বিবৃতিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক সংস্কারের প্রতি ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। পাশাপাশি ‘কোভেন্যান্ট অন দ্য রাইট টু ডেভেলপমেন্ট’ দ্রুত গ্রহণের পক্ষে ভারতের সমর্থনের কথা তুলে ধরেছেন।
জাতিসংঘের বিবৃতি অনুযায়ী, ‘ডিক্লারেশন অন দ্য রাইট টু ডেভেলপমেন্ট’-এ উন্নয়নের অধিকারকে একটি অবিচ্ছেদ্য মানবাধিকার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর আওতায় প্রত্যেক ব্যক্তি ও জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নে অংশগ্রহণ, অবদান রাখা এবং সেই উন্নয়নের সুফল ভোগ করার অধিকার রয়েছে। এর মাধ্যমে সব ধরনের মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার পূর্ণ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, ঘোষণাটি গ্রহণের পর থেকে টেকসই উন্নয়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বিভিন্ন উদ্যোগের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ দিশা দেখিয়েছে।
গত চার দশকে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, কয়েকশো মিলিয়ন মানুষকে চরম দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও সেই অগ্রগতি সর্বত্র সমান নয় বলে জাতিসংঘ উল্লেখ করেছে।
জাতিসংঘের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বহু দেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাঠামোগত বাধার মুখোমুখি। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে অর্থায়নের ঘাটতিও অব্যাহত রয়েছে। ঘোষণার ৪০তম বার্ষিকী বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উন্নয়নের অধিকারকে একটি কেন্দ্রীয় কাঠামো হিসেবে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করার এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।
আইএএনএস



















