ধর্মনগর, ২৪ সেপ্টেম্বর: আসন্ন এডিসি ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তর ত্রিপুরা জেলায় নির্বাচনী প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করলেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার ড. পি কে চক্রবর্তী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত পুলিশ মহাপরিচালক জি এস রাও। বৃহস্পতিবার ধর্মনগরে উত্তর ত্রিপুরা জেলা সদর দফতরে প্রশাসন ও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকদের পাশাপাশি রিটার্নিং অফিসার, অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার, নির্বাচন পর্যবেক্ষক, এসডিপিও, জেলা পুলিশ সুপার-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে ড. পি কে চক্রবর্তী জানান, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হয়েছে। বিশেষ করে ডিসপ্যাচ সেন্টার থেকে ভোটকর্মীদের ভোটকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও ভোটার সচেতনতা, ভোটগ্রহণের দিন নজরদারি এবং ভোটগ্রহণ শেষে কর্মীদের রিসিভিং সেন্টারে ফেরার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
অন্যদিকে, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচনের জন্য নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন, বিভিন্ন এলাকায় এরিয়া ডমিনেশন অভিযান, ভোটকেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পর্কে কমিশনকে অবহিত করা হয়।
ড. চক্রবর্তী জানান, উত্তর ত্রিপুরা জেলার নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে কমিশন সন্তুষ্ট। শান্তিপূর্ণ ও অবাধ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, কেন্দ্রীয় বাহিনী ইতিমধ্যেই দায়িত্বে রয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় এরিয়া ডমিনেশন ও টহল চালাচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি জি এস রাও জানান, বৈঠকে পর্যালোচনা করা প্রস্তুতিগুলি সন্তোষজনক। তবে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, উত্তর ত্রিপুরার বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্র দুর্গম ও অভ্যন্তরীণ এলাকায় অবস্থিত। বৃষ্টি হলে কিছু এলাকায় রাস্তার পরিস্থিতি ভোটকর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনীর চলাচলের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি জেলার কয়েকটি এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
জি এস রাও জানান, ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোট ৭৪ কোম্পানি সিআরপিএফ, সিএপিএফ, বিএসএফ, এসএসবি এবং আইটিবিপি বাহিনী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ১২ কোম্পানি বাহিনী উত্তর ত্রিপুরা জেলার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে এবং এরিয়া ডমিনেশন ও টহল অভিযান চালাচ্ছে। গণনা পর্ব পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
প্রশাসন ও পুলিশ আধিকারিকরা জানান, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করতে গোটা পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে।
























