জামশেদপুর, ২৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরে বৃহস্পতিবার দিনদুপুরে কানাড়া ব্যাঙ্কের একটি শাখায় বড়সড় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গোলমুড়ি এলাকার ওই ব্যাঙ্কে পাঁচ সশস্ত্র দুষ্কৃতী ঢুকে কর্মী ও গ্রাহকদের আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে জিম্মি করে নগদ টাকা এবং গ্রাহকদের ঋণের বিনিময়ে বন্ধক রাখা বিপুল পরিমাণ সোনা লুট করে পালিয়ে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে লুট হওয়া সম্পদের মূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে জানা গেলেও, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ বা পুলিশ এখনও চুরি যাওয়া নগদ ও সোনার সঠিক পরিমাণ বা মোট মূল্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, মুখোশ পরা পাঁচ দুষ্কৃতী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ব্যাঙ্কে ঢোকে। এরপর কর্মী ও গ্রাহকদের বন্দুকের মুখে রেখে গোটা ব্যাঙ্কের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় তারা। দুষ্কৃতীরা ব্যাঙ্কের কাউন্টার থেকে নগদ টাকা সংগ্রহ করার পাশাপাশি লকারও জোর করে খুলে ফেলে এবং ঋণের বিনিময়ে গ্রাহকদের বন্ধক রাখা সোনা নিয়ে যায়।
ডাকাতির সময় এক ব্যাঙ্ককর্মী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে রিভলভারের বাঁট দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে ওই কর্মী আহত হন।
লুটপাট শেষ করার পর পাঁচ দুষ্কৃতী পায়ে হেঁটে ব্যাঙ্ক থেকে পালিয়ে যায়। দিনের ব্যস্ত সময়ে এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশের পদস্থ আধিকারিকরা বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন।
ঘটনার তদন্তে নেমে ব্যাঙ্কের ভিতর থেকে বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ফরেনসিক ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞরাও ঘটনাস্থল পরীক্ষা করেছেন। দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করতে ব্যাঙ্ক এবং আশপাশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে তারা কোন পথে পালিয়েছে, তা-ও জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
অভিযুক্তদের ধরতে জামশেদপুরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি ও নাকা-চেকিং শুরু হয়েছে। একাধিক পুলিশ দল গঠন করে সন্দেহভাজনদের সম্ভাব্য আস্তানায় অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিকে, লুটের প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করতে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ নগদ টাকা ও সোনার নথিপত্র মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করছে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই লুট হওয়া সম্পদের সঠিক মূল্য জানা যাবে।
–আইএএনএস



















