নিউ টাউন, ২৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার লিখিতভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে প্রকাশিত রিপোর্টের সত্যতা ও প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনারদের আপত্তির বিষয়ে কী প্রমাণ রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
সম্প্রতি একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া নিয়ে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন ও বাদ দেওয়া এবং কিছু সিদ্ধান্তের বিষয়ে দুই নির্বাচন কমিশনারকে অবহিত করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও তাঁদের আপত্তি ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে আসছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন-সহ সমস্ত সিদ্ধান্ত তিন নির্বাচন কমিশনারের অনুমোদন ও সর্বসম্মতিতেই নেওয়া হয়েছে।
এদিন দিলীপ ঘোষ বলেন, এস আই আর-এর বিষয়টি আদালতেও আলোচনা হয়েছে এবং অনেকে আদালতের দ্বারস্থও হয়েছেন। কিন্তু কোনও অনিয়মের প্রমাণ সামনে আসেনি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, কারও নাম বেআইনিভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়ে নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করতে পারেন।
বিরোধীদের উদ্দেশে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, যাঁরা উপনির্বাচনে প্রার্থী পর্যন্ত দিতে পারেন না, তাঁদের কথা কে শুনবে—সেই প্রশ্নও রয়েছে।
লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং অন্যান্য বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলে দিলীপ ঘোষ বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেফতারের দাবি তোলা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, রাহুল গান্ধী কি আদালত ও বিচারব্যবস্থার ভূমিকা নিয়েছেন, নাকি সংবিধান হয়ে গিয়েছেন যে তিনি ঠিক করবেন কাকে গ্রেফতার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণ ভোট না দেওয়ায় কোনও নির্বাচনে জয় না পেলে এবং নির্বাচন যদি অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়ে থাকে, তাহলে তার দায় কার—সেই প্রশ্নও বিরোধীদের নিজেদেরই ভাবা উচিত।
এদিকে নিউ টাউনে আদানি গোষ্ঠীর প্রস্তাবিত ২,০০০ শয্যার হাসপাতাল নিয়েও কথা বলেন দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।
তিনি জানান, হাসপাতালের ১,০০০টি শয্যা দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে। এই প্রকল্পে রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, বিভিন্ন শিল্পপতি ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠী রাজ্যে বিনিয়োগে আসছেন এবং ধাপে ধাপে তাঁদের জমি বরাদ্দ করা হবে। এর আগে যে সংস্থাগুলি জমি নেওয়ার পরও কাজ শুরু করেনি, সরকারের নীতি অনুযায়ী সেই জমিও ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।



















