আগরতলা, ২৩ সেপ্টেম্বর: এডিসি ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরব হল প্রদেশ কংগ্রেস। বুধবার আগরতলায় প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্য নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা।
আশিস সাহার অভিযোগ, নির্বাচনের আগে বিরোধীদের বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। নির্বাচন ঘোষণার কয়েকদিন আগে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার পরিবর্তনের বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে তুলে তিনি বলেন, এর পেছনে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করার উদ্দেশ্য রয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন।
তাঁর আরও অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় কংগ্রেস প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন, আরক্ষা প্রশাসন ও সাধারণ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের।
উল্লেখ্য, এডিসির ৫৮৭টি ভিলেজ কমিটির নির্বাচনে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা। ২,৬৩৪টি নির্বাচনী এলাকা ও ৪,৫৯৭টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেসের রাজ্য প্রভারী সাংসদ সপ্তগিরি শঙ্কর উলাকাও বক্তব্য রাখেন। তিনি এডিসি এলাকার মানুষের কাছে ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে কংগ্রেসকে সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানান। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে না পারলে পরবর্তী সময়ে মানুষ তাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে পারবেন।
সপ্তগিরি উলাকা আরও বলেন, আগামী ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রদেশ কংগ্রেস প্রস্তুতি শুরু করেছে। ত্রিপুরার উন্নয়নের লক্ষ্যে দল ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে বলেও দাবি করেন তিনি।
টিপ্রা মথার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে উলাকা বলেন, গত পাঁচ বছর এডিসি তাদের হাতে থাকলেও নির্বাচনের আগে দেওয়া একাধিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। ২৩ হাজার সরকারি চাকরি, ৬ হাজার পুলিশ নিয়োগ এবং ছাত্রছাত্রীদের ল্যাপটপ ও স্মার্টফোন দেওয়ার প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তিপ্রা মথাকে বিজেপির ‘ছোট ভাই’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
অন্যদিকে, আগামীকাল থেকে উনকোটি, আমবাসা ও ধর্মনগর জেলায় কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেবেন রাজ্য প্রভারী সপ্তগিরি শঙ্কর উলাকা বলে জানানো হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী, শব্দ কুমার জামাতিয়া-সহ অন্যান্য কংগ্রেস নেতৃত্ব।



















