নয়াদিল্লি, ২৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারত ও ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থা-র দেশগুলির মধ্যে স্বাক্ষরিত ট্রেড অ্যান্ড ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (টিইপিএ) গত বছর কার্যকর হওয়ার পর ভারত ও আইসল্যান্ডের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে জানিয়েছেন নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত আইসল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত বেনেডিক্ট হস্কুল্ডসন। বুধবার একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি আইএএনএস-কে এ কথা জানান।
রাষ্ট্রদূত বলেন, চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই ভারতজুড়ে টিইপিএ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে আইসল্যান্ডের স্বার্থ তুলে ধরতে কার্যকরভাবে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমি মনে করি, টিইপিএ সত্যিই আমাদের দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে একটি শক্ত ভিত্তি দিয়েছে।”
হস্কুল্ডসন জানান, গত বছরের অক্টোবরে ভারত-ইএফটিএ চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর আইসল্যান্ড ভারতে পর্যটন ও সামুদ্রিক খাদ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে পর্যটন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভারতের তিনটি পৃথক শহরে তিনটি কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া দিল্লিতে আইসল্যান্ডের সামুদ্রিক খাদ্যপণ্য প্রচারের জন্য একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যার ইতিবাচক ফলও পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি জানান।
এই সময়ের মধ্যে ভারতের সামুদ্রিক ক্ষেত্রে আইসল্যান্ড থেকে একটি উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগও হয়েছে বলে রাষ্ট্রদূত জানান।
তিনি বলেন, আগামী বছরগুলিতে ভারতের বাজার ও অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য বিকাশ হবে বলে আইসল্যান্ড মনে করে। এশিয়ায় আইসল্যান্ডের কার্যক্রম ও অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে ভারত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
হস্কুল্ডসন ভারতের গত এক দশকের দ্রুত অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে বলেন, অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই বিশ্বে ভারতের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাতেও ভারত ও আইসল্যান্ড একসঙ্গে কাজ করছে বলে জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আইসল্যান্ড ভারতের জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ানোর যাত্রায় সহযোগিতা করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রথম ক্ষেত্রটি হল ভূ-তাপীয় প্রযুক্তি। প্রায় ১০০ বছর ধরে আইসল্যান্ড এই প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করেছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য উচ্চ-তাপমাত্রার ভূ-তাপীয় প্রযুক্তি এবং অপেক্ষাকৃত কম তাপমাত্রার ভূ-তাপীয় সম্পদের ব্যবহার রয়েছে। বিশেষ করে ভারতের উত্তরাঞ্চল ও হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য এই প্রযুক্তি উপকারী হতে পারে বলে তিনি জানান।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হল কার্বন ক্যাপচার, ইউটিলাইজেশন অ্যান্ড স্টোরেজ বা সিসিইউএস। গত ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আইসল্যান্ড এই প্রযুক্তির বাণিজ্যিক প্রয়োগে কাজ করছে। বর্তমানে সেই প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে ভারতে নিয়ে আসা হচ্ছে বলেও রাষ্ট্রদূত জানান।
তিনি বলেন, ভারতের ইস্পাত, পেট্রোকেমিক্যাল ও সিমেন্টের মতো কার্বন-নিঃসরণ কমানো কঠিন শিল্পগুলি দেশের অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয়। তাই এই শিল্পগুলি বন্ধ না করে তাদের নির্গমন ও কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমাতে প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরি।
বর্তমানে ব্যবহারের উপযোগী একটি পদ্ধতি হিসেবে ভূগর্ভস্থ ব্যাসল্ট শিলাস্তরে কার্বন ধরে সংরক্ষণ করার কথা উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি হাইড্রোজেনের সঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড রূপান্তর করে ই-মিথানল তৈরির সম্ভাবনার কথাও জানান, যা ভবিষ্যতে বিমান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।



















