বদোদরা, ২৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): শিক্ষা ও পেশাগত দক্ষতাকে শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের জন্য নয়, সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানালেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বুধবার গুজরাটের মহারাজা সায়াজিরাও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্নাতকদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষার প্রকৃত অর্থ তখনই সার্থক হয়, যখন তা বৃহত্তর সমাজের কাজে লাগে।
রাষ্ট্রপতি শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করেন, তাঁরা অর্জিত শিক্ষা ও জ্ঞান কীভাবে কাজে লাগাবেন—শুধু নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, নাকি সমাজ ও দেশের জন্যও। তাঁর বক্তব্য, কর্মজীবনে দেশ ও সমাজের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিলে ব্যক্তিগত ও সামাজিক—দুই ক্ষেত্রেই অগ্রগতি সম্ভব।
বিভিন্ন পেশার সঙ্গে জনকল্যাণের যোগসূত্র তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ইঞ্জিনিয়ারদের এমন প্রযুক্তি তৈরি করা উচিত যা মানুষের জীবনকে আরও সহজ করে। চিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসা শুধু পেশা নয়, পরিষেবাও হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, জীবনে অর্থ উপার্জন প্রয়োজনীয় হলেও সেটিই সবকিছু নয়। সমাজসেবা আর্থিক সাফল্যের পাশাপাশি মানুষের জীবনে সন্তুষ্টি ও তৃপ্তি এনে দিতে পারে।
বিজ্ঞানীদের মানবকল্যাণে সমস্যার সমাধান খোঁজার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। শিল্পী ও লেখকদের তাঁদের সৃজনশীলতার মাধ্যমে সমাজের সংবেদনশীলতা আরও সমৃদ্ধ করার পরামর্শ দেন। উদ্যোক্তাদের শুধু সম্পদ তৈরি নয়, কর্মসংস্থান ও নতুন সুযোগ তৈরির দিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বার্তা, “বাঁচুন এবং অন্যকেও বাঁচতে দিন।”
শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশ করতে চলা পড়ুয়াদের এমন প্রজন্ম গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি, যারা ভারতের ঐতিহ্য ও উন্নয়নকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। আর জনজীবনে প্রবেশকারীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, পদকে ক্ষমতা হিসেবে নয়, দায়িত্ব হিসেবে দেখা উচিত।
সাফল্যের পথে যাঁরা পাশে থেকেছেন, তাঁদেরও মনে রাখার পরামর্শ দেন রাষ্ট্রপতি। বাবা-মা, শিক্ষক, কঠিন সময়ে পাশে থাকা মানুষ এবং যে সমাজ সুযোগ দিয়েছে—সকলের অবদান স্মরণ করার আহ্বান জানান তিনি।
২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যেও তরুণ প্রজন্ম ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। গুণগত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা, মানবকল্যাণে বিজ্ঞান-প্রযুক্তির ব্যবহার, সমান সুযোগ এবং নারী ও যুবসমাজের সম্ভাবনা বিকাশের ওপর তিনি জোর দেন।
৭৫তম সমাবর্তনে ২২৯ জন পিএইচডি, ২,৮৫৭ জন মাস্টার্স, ৮,৮৬৩ জন স্নাতক এবং ৬৫৭ জন পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি ও ডিপ্লোমার জন্য যোগ্য ঘোষণা করা হয়।
























