আইজল, ২৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মিজোরামের কোলাসিব জেলায় ২৯ বছরের অসম রেজিমেন্টের জওয়ান জাকারিয়া লালহরিয়াতলুয়াঙ্গাকে হত্যার ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আরও দুই নাবালককে আটক করে জেলা জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ছয় অভিযুক্ত হলেন জোরেমথাঙ্গি (৩৮), ইমানুয়েল লালছানহিমা (২৭), লালহুন্দিকা (২৯), লালনুনফিমা (২৬), ডেভিড রেমরুয়াতপুইয়া (১৮) এবং মালসাওমতলুয়াঙ্গা (২৪)। তাঁরা সকলেই কোলাসিব জেলার কাউনপুই শহরের হামার ভেং এলাকার বাসিন্দা। ছয়জনকেই বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে কোলাসিব জেলা কারাগার ও সংশোধন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, দুই নাবালককে পুলিশ হেফাজত বা বিচারবিভাগীয় হেফাজতে নেওয়া হয়নি। তাঁদের জেলা জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।
কাউনপুই থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর ১০৩(১), ১১৫ ও ৩(৬) ধারায় এবং মিজোরাম লিকার প্রহিবিশন অ্যাক্ট, ২০১৯-এর ৬(২) ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।
জাকারিয়া লালহরিয়াতলুয়াঙ্গা জম্মু ও কাশ্মীরে অসম রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন। ছুটিতে নিজের গ্রাম নিউ বিলুমে ফেরার পথে তিনি লেংপুই বিমানবন্দরে পৌঁছন। বিমানবন্দর থেকে তাঁর বন্ধু জন লালতানপুইয়া একটি ট্রাকে করে তাঁকে নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হন।
বুয়ালপুই এলাকার কাছে জাতীয় সড়ক-৩০৬-এর কফি বোর্ডের বাগানের কাছে রাস্তার একটি ক্ষতিগ্রস্ত অংশে দুটি ট্রাক পরস্পরকে পাশ কাটাতে গিয়ে সমস্যায় পড়ে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। এরপর দুই চালকের মধ্যে বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, একদল যুবক সেখানে এসে জাকারিয়ার বন্ধুকে মারধর করে। বন্ধুকে রক্ষা করতে জাকারিয়া এগিয়ে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পরে তাঁর মৃত্যু হয়।
পোস্টমর্টেমের পর জওয়ানের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সোমবার পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
পরিবার জানিয়েছে, জাকারিয়া ২০১৭ সালে অসম রেজিমেন্টে যোগ দিয়েছিলেন এবং শ্রীনগরে কর্মরত ছিলেন। তিনি ছিলেন পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে দ্বিতীয় কনিষ্ঠ এবং বৃদ্ধ বাবা-মায়ের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। তাঁর পরিবার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে।



















