নয়াদিল্লি, ২৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মেঘালয়ে বড়সড় রাজনৈতিক পালাবদল। রাজ্যের আঞ্চলিক দল ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক পার্টি (ইউডিপি)-র আটজন বিধায়ক বুধবার বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এর ফলে ৬০ সদস্যের মেঘালয় বিধানসভায় বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা দুই থেকে বেড়ে ১০ হয়েছে।
নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, দলের জাতীয় মুখপাত্র তথা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সম্বিত পাত্র এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে আট বিধায়ক আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন।
বিজেপিতে যোগ দেওয়া বিধায়করা হলেন— লাহমেন রিম্বুই, কিরমেন শ্যিলা, বালাজিয়েড কুপার সিনরেম, সিনশার কুপার রয় লিংডোহ থাবাহ, পিউস মারউইন, মায়রালবর্ন সিয়েম, ওলান সিং সুইন এবং ম্যাথিউ বিয়ন্ডস্টার কুরবাহ।
আট বিধায়ককে স্বাগত জানিয়ে কিরেন রিজিজু বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নমূলক উদ্যোগই তাঁদের বিজেপিতে যোগদানের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। তাঁর দাবি, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রতি কেন্দ্রের বাড়তি গুরুত্ব এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ও উন্নয়নের পরিসর বদলে দিয়েছে। আগের কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের পদ্ধতির সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির পার্থক্যও তুলে ধরেন তিনি।
রিজিজু আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন এবং নির্বাচনী সফর বাদ দিয়ে উন্নয়নমূলক কর্মসূচি ও জনসংযোগের জন্য ৮০ বারেরও বেশি এই অঞ্চলে গিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, আট বিধায়কের বিজেপিতে যোগদানের ফলে মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে. সাংমার নেতৃত্বাধীন সরকার আরও শক্তিশালী হবে এবং রাজ্যে বিজেপি ও তার এনডিএ সহযোগীদের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়বে।
আট বিধায়কের দলবদলের ফলে মেঘালয় বিধানসভায় ইউডিপির শক্তি ১২ থেকে কমে চার হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০-এ। ৩৩ বিধায়ক নিয়ে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)-র পর এখন বিজেপিই বিধানসভার দ্বিতীয় বৃহত্তম দল।
জানা গিয়েছে, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে আট বিধায়ক মেঘালয়-সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। এর মধ্যে খাসি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা, কয়লা খনি সংক্রান্ত সমস্যা, মেঘালয় রেসিডেন্টস সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাক্টের বাস্তবায়ন এবং থেম ইও মাওলং-এর হারিজন কলোনি স্থানান্তরের প্রস্তাবের মতো বিষয় ছিল।
কিরমেন শ্যিলা এর আগে জানিয়েছিলেন, এই বিষয়গুলিতে বিজেপি নেতৃত্বের কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়ার পরই তাঁরা দলবদলের সিদ্ধান্ত নেবেন।
মেঘালয়ে এই সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
–আইএএনএস



















