নয়াদিল্লি, ২২ সেপ্টেম্বর(আইএএনএস) : ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে জারি করা নোটিস মানেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নয়। মঙ্গলবার দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) অশোক কুমার এ কথা জানিয়ে জানান, খসড়া ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রয়োজনীয় নথি-সহ ফর্ম-৬ জমা দেওয়া যাবে।
যোগ্য ভোটারদের সর্বাধিক সংখ্যায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দিল্লির সমস্ত ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হবে বলেও জানান সিইও।
এসআইআর নোটিস পাওয়া ভোটারদের বক্তব্য পেশ এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হবে। আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত নোটিসের নিষ্পত্তি করা হবে এবং ৪ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
দিল্লির সিইও-র দফতর জানিয়েছে, কোনও ভোটারের নাম একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় থাকা উচিত নয়। একই কেন্দ্রের তালিকাতেও একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার থাকা বেআইনি। একাধিক নাম থাকলে ফর্ম-৭-এর মাধ্যমে অতিরিক্ত নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করতে হবে। ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১৭ ও ১৮ নম্বর ধারায় একই সঙ্গে একাধিক জায়গায় নাম থাকা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
সিইও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, শুধুমাত্র ভোটার পরিচয়পত্র বা ইপিআইসি থাকলেই ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত হয় না। ভোট দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় থাকা আবশ্যক।
এক বিবৃতিতে অশোক কুমার বলেন, ‘‘নোটিস জারি করার অর্থ এই নয় যে দিল্লির ভোটার তালিকা থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়া হবে।’’ তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট ভোটারকে বক্তব্য পেশের সুযোগ না দিয়ে এবং যথাযথ কারণ-সহ আদেশ জারি না করে কোনও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগও থাকবে।
এর আগে দিল্লির সিইও-র দফতর জানিয়েছিল, ইসিআইনেট-এ ভোটারদের তথ্য সংশোধনের লক্ষ্যে নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির ভোটারকে সিস্টেম-জেনারেটেড নোটিস পাঠানো হচ্ছে। খসড়া ভোটার তালিকায় থাকা মূলত দু’টি শ্রেণির ভোটারকে এই নোটিস দেওয়া হচ্ছে।
এক, যাঁদের নাম শেষ বিশেষ নিবিড় সংশোধনের ভোটার তালিকার সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়নি। দুই, যাঁদের বর্তমান তথ্যের সঙ্গে শেষ বিশেষ নিবিড় সংশোধনের ভোটার তালিকার তথ্য সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে অসঙ্গতি রয়েছে।
নোটিস পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ভোটাররা তাঁদের জবাব এবং প্রয়োজনীয় নথি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক অথবা সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকের কাছে জমা দিতে পারবেন।
সিইও-র দফতর জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত নথির তালিকা সম্পূর্ণ নয়, তা নির্দেশনামূলক। সংশ্লিষ্ট ইআরও বা এইআরও আইনসিদ্ধ কর্তৃপক্ষ হিসেবে জমা দেওয়া নথি এবং বুথ লেভেল অফিসারের রিপোর্টের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
চলতি এসআইআর-এর নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত নোটিসগুলির নিষ্পত্তির জন্য যথেষ্ট সময় রয়েছে। যোগ্য ভোটারদের নাম ৪ নভেম্বর প্রকাশিতব্য চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও জানিয়েছে দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর।



















