কৈলাসহর, ২২ সেপ্টেম্বর: তিপ্রা মথার প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যুত কিশোর দেববর্মনের ‘গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড’-এর দাবির প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানালেন কৈলাসহরের কংগ্রেস বিধায়ক বিরজিত সিনহা। এমনকি, মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ড. মানিক সাহা যেন অবিলম্বে প্রদ্যুত কিশোর দেববর্মনের এই দাবি মেনে নেন, সেই দাবিও নির্বাচনী জনসভা থেকে জানান তিনি। বিরজিতের এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। দলের অন্দরেও প্রশ্ন উঠছে—তাহলে কি এবার তিপ্রা মথার দিকে পা বাড়াচ্ছেন বিরজিত?
উল্লেখ্য, ‘গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড’ তিপ্রা মথার অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দাবি। অতীতে এই দাবির বিষয়ে বিরজিত সিনহার অবস্থান নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন বক্তব্যও প্রকাশিত হয়েছে।
মঙ্গলবার কৈলাসহর জেলা কংগ্রেসের উদ্যোগে চিনিবাগান বাজারে এক নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করা হয়। এই সভায় উপস্থিত ছিলেন কৈলাসহরের বিধায়ক বিরজিত সিনহা, জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোহাম্মদ বদরুজ্জামান, সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সদস্য সুশান্ত চক্রবর্তী, কংগ্রেস নেতা রুদ্রেন্দু ভট্টাচার্য, তিন কুমার দারলং, সুরাইয়া দারলং, লইসিমা দারলং, রুনু মিয়াসহ দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা। সভায় ২৫ জন কংগ্রেস প্রার্থীর পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক দলীয় কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
কৈলাসহরের গৌরনগর ব্লকের অধীনে হীরাছড়া, দেওরাছড়া ও ঊনকোটি—এই তিনটি এডিসি ভিলেজ রয়েছে। তিনটি ভিলেজের মোট ২৫টি আসনেই বিজেপি, কংগ্রেস, তিপ্রা মথা ও সিপিআইএমের মধ্যে চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বলে কংগ্রেসের দাবি। এই নির্বাচনী লড়াইয়ের মধ্যেই বিরজিত সিনহার ‘গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড’ সমর্থনের বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপি ও সিপিআইএমের তীব্র সমালোচনা করেন বিরজিত সিনহা। তাঁর দাবি, ২০১৬ সালে রাজ্যের এডিসি এলাকায় ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও তৎকালীন বাম সরকার সেই নির্বাচন করেনি। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরও দীর্ঘ সময় ধরে ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচন নিয়ে কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিরজিতের দাবি, শেষ পর্যন্ত প্রদ্যুত কিশোর দেববর্মন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পর আদালতের নির্দেশেই রাজ্যে ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, সিপিআইএম এবং বিজেপি—কোনও দলই ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচন নিয়ে আন্তরিক ছিল না। প্রদ্যুত কিশোর দেববর্মন মামলা না করলে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো না বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিন সিপিআইএমের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ তোলেন কংগ্রেস বিধায়ক। তাঁর দাবি, রাজ্যের উপজাতি স্বশাসিত জেলা পরিষদ গঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহাসিক উদ্যোগের সময়ও তৎকালীন বাম সাংসদদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, কংগ্রেসের ভূমিকা ছাড়া এডিসির উন্নয়ন সম্ভব হতো না।
তবে এদিনের জনসভায় বিরজিত সিনহার মুখে প্রদ্যুত কিশোর দেববর্মনের ‘গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড’ দাবির সরাসরি সমর্থনই রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তাঁর এই অবস্থান কি শুধুই একটি রাজনৈতিক ইস্যুতে সমর্থন, নাকি ভবিষ্যতে তিপ্রা মথার সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত—তা নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে।



















