নয়াদিল্লি, ২২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): উড়ান প্রকল্পের পরবর্তী পর্যায়ের জন্য দেশের ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের সঙ্গে সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করেছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী রামমোহন নাইডু।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী উড়ান প্রকল্পকে দেশের অন্যতম যুগান্তকারী প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই প্রকল্প দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে বিমান যোগাযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
নাইডু জানান, উড়ান প্রকল্পের মেয়াদ আরও ১০ বছর বাড়ানোর মাধ্যমে সরকার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১০০টি নতুন বিমানবন্দর এবং ২০০টি আধুনিক হেলিপ্যাড তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে। নতুন পর্যায়ে চার কোটি উড়ান যাত্রীর বিমান পরিষেবা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, গত এক দশকে সংশোধিত উড়ান প্রকল্পের আওতায় ৮০টিরও বেশি বিমানবন্দর তৈরি হয়েছে এবং প্রায় ১ কোটি ৫৪ লক্ষ যাত্রী সাশ্রয়ী বিমান পরিষেবার সুবিধা পেয়েছেন।
অনুষ্ঠানে উড়ানের পরবর্তী পর্যায়ে ‘চ্যালেঞ্জ মোড’-এরও সূচনা করা হয় এবং দরপত্রের নথি প্রকাশ করা হয়। এই ব্যবস্থায় বিমানবন্দর নির্মাণের প্রকল্পগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। এর ফলে নির্মাণের সময়সীমা আগের গড় দুই থেকে তিন বছর থেকে কমিয়ে ১৮ মাস করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
রামমোহন নাইডু জানান, বর্তমানে ভারতের বিমান পরিবহণ ক্ষেত্র ৭০ লক্ষেরও বেশি কর্মসংস্থানকে সহায়তা করছে। ২০৪০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ২ কোটিরও বেশি হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভায়াবিলিটি গ্যাপ ফান্ডিং-এর সহায়তা ধাপে ধাপে কমানোর পদ্ধতিতে দেওয়া হবে এবং এই সহায়তার মেয়াদ তিন বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার যে অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প গ্রহণ করছে, সেগুলি এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে দীর্ঘমেয়াদে সেগুলি সফলভাবে চালিয়ে যাওয়া যায়।
দেশে আরও বেশি বিমান সংস্থা গড়ে তোলার ওপরও জোর দেন তিনি। ছোট বিমান সংস্থাগুলির সঙ্গে রাজ্যগুলিকে আরও সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়ে নাইডু বলেন, “ছোট বিমান সংস্থাগুলি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে চায়, তাদের সামান্য উৎসাহ প্রয়োজন।”
রাজ্যগুলি বিভিন্ন গোষ্ঠীকে একত্রিত করে নতুন বিমান সংস্থা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে পারে বলেও তিনি জানান। তাঁর মতে, এক্ষেত্রে কেন্দ্রের পাশাপাশি রাজ্যগুলির ছোট বিমান সংস্থাগুলির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন।
আঞ্চলিক বিমান সংস্থাগুলির বিকাশে সহায়তা করতে রাজ্যগুলি ছোট পরিসরের বিভিন্ন মডেল নিয়েও কাজ করতে পারে বলে জানান অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী।
এদিকে, কম খরচের বিমান সংস্থা স্পাইসজেটের পরিচালন ও আর্থিক পরিস্থিতির ওপর ডিজিসিএ কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে বলেও জানান নাইডু। নিরাপত্তার মানদণ্ডে যাতে কোনও ঘাটতি না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই নজরদারি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শিল্পক্ষেত্রে কঠিন পরিস্থিতির সময় কেন্দ্র ইমার্জেন্সি ক্রেডিট লাইন গ্যারান্টি স্কিম-এর মাধ্যমে সহায়তা দিয়েছিল বলেও জানান মন্ত্রী। পশ্চিম এশিয়ার সংকটজনিত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও এই সহায়তা দেওয়া হয়েছিল এবং এর আওতায় স্পাইসজেটকে ১৫০ কোটি টাকা দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।



















