নয়াদিল্লি, ২২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা দ্রুত গতিতে এবং সঠিক দিকেই এগোচ্ছে বলে মঙ্গলবার জানালেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তবে আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
গোয়েল বলেন, আমেরিকার সঙ্গে ভারতের আলোচনা “দ্রুত গতিতে এবং ভালো দিকেই এগোচ্ছে”। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থে এই বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে নিয়মিত আলোচনা চলছে।
এমন সময়ে গোয়েলের এই মন্তব্য সামনে এসেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে একটি বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা বিলে স্বাক্ষর করেছেন। নতুন আইনে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। রাশিয়ার তেলের শীর্ষ দুই ক্রেতার মধ্যে রয়েছে ভারত ও চিন।
এর আগে সোমবার গোয়েল বলেছিলেন, নতুন আইনের আওতায় রাশিয়ার তেল ক্রেতাদের উপর সম্ভাব্য মার্কিন শুল্কের বিস্তারিত বিষয়গুলি আগে খতিয়ে দেখবে ভারত। এরপর “উপযুক্ত সময়ে” বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।
২০২৬ সালের ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট’ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বিষয়টির বিস্তারিত এখন সামনে আসছে। আমরা সেগুলি পর্যালোচনা করব এবং উপযুক্ত সময়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।”
নতুন আইনে উল্লেখ করা ১০০ শতাংশ শুল্ক কোনও স্বয়ংক্রিয় শুল্ক নয়। এটি সর্বোচ্চ শুল্কের হার, যা ওই আইনের আওতায় আমেরিকা আরোপ করতে পারে।
এদিকে, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং দুই দেশ নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। চলতি মাসের শেষদিকে মিলওয়াকিতে অনুষ্ঠিতব্য জি২০ বাণিজ্যমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের সময় মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে গোয়েলের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের আগস্টের ২৭.২০ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় চলতি বছরের আগস্টে ভারতের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি কমে ২৬.৮৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্রথমবারের মতো ওই মাসে আমদানির তুলনায় রফতানি বৃদ্ধির হার বেশি হয়েছে।
জুলাই মাসের প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতির তুলনায় ধারাবাহিক হিসাবেও আগস্টে ঘাটতি কমেছে। আগস্টে ভারতের পণ্য রফতানি ২৬.১২ শতাংশ বেড়ে ৪৩.১৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে আমদানি ১৪.১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৭২.৬৭ বিলিয়ন ডলার।
বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল জানান, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, পেট্রোলিয়াম পণ্য, রাসায়নিক এবং বস্ত্রের রফতানি বৃদ্ধির কারণে সামগ্রিক রফতানিতে গতি এসেছে। আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ব্রিকসের দেশগুলি থেকে প্রধানত চাহিদা এসেছে।
—আইএএনএস



















