মুম্বই, ২৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): আইআইটি বম্বের পড়ুয়া সাহিল ওয়াকোড়ের পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলে ন্যায়বিচারের দাবিতে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মহারাষ্ট্র কংগ্রেস জানিয়েছে, সাহিলের পরিবারের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন রাহুল গান্ধী। ন্যায়বিচারের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে যে লড়াই চালানো হচ্ছে, তাতে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
সাহিলের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার আইআইটি বম্বে কর্তৃপক্ষ এবং কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। বর্তমানে মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ এই ঘটনার তদন্ত করছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে এই ঘটনা নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করার কথা রয়েছে যুব কংগ্রেসের। সেখানে সংগঠনের পরবর্তী কৌশল এবং মামলায় পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে ঘোষণা করা হতে পারে।
অন্যদিকে, সাহিলের মৃত্যুর কয়েক দিন পর বুধবার আইআইটি বম্বেতে নিয়মিত ক্লাস ফের শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। দ্বিতীয় বর্ষের এই পড়ুয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এর আগে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ হয়েছিল।
মুম্বই পুলিশ বুধবার জানিয়েছে, সাহিলের মৃত্যুর তদন্ত নিরপেক্ষভাবে করা হচ্ছে এবং সমস্ত সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে মামলাটি নিয়ে কোনও ধরনের ভুয়ো তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আধিকারিকরা জানান, আইআইটি বম্বের পড়ুয়া সাহিল রবীন্দ্র ওয়াকোড়ের (২০) মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে পাওয়াই থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরে মামলাটি মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চে স্থানান্তরিত করা হয়। ডিসিবি সিআইডি ক্রাইম রেজিস্টার নম্বর ১২৪/২০২৬ হিসেবে মামলাটি নথিভুক্ত হয়েছে।
তদন্তের দায়িত্ব অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অব পুলিশ পদমর্যাদার এক আধিকারিককে দেওয়া হয়েছে এবং ক্রাইম ব্রাঞ্চের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি), ডিটেকশন-১-এর তত্ত্বাবধানে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, সাহিলের মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগে নাম আসা আইআইটি বম্বের অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লাকে তদন্ত চলাকালীন ছুটিতে পাঠানো হয়েছে বলে বুধবার সূত্রের খবর। সাহিলের বাবা-মা অধ্যাপক দুল্লার অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। পড়ুয়ার মৃত্যুর পর তাঁর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা এবং জাতিগত বৈষম্য-সহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।
এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের বি.টেক পড়ুয়া সাহিলকে ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পাওয়াই ক্যাম্পাসের হস্টেলের ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। অভিযোগ, ওই দিন মাঝ-সেমেস্টার পরীক্ষার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে গিয়ে তাঁকে ধরা হয়েছিল। এর কয়েক ঘণ্টা পরই এই ঘটনা ঘটে।
–আইএএনএস



















