নয়াদিল্লি, ২৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): জনজীবনে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের কাছে সেবাই প্রাথমিক কর্তব্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার ‘সেবা সংকল্প যাত্রা’-য় অংশ নেওয়া সেবাযাত্রীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলেন তিনি। গুজরাটের বডনগর থেকে বারাণসী পর্যন্ত এই বাইক যাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন জনসংযোগ ও সমাজসেবামূলক কর্মসূচিতে যুক্ত হচ্ছেন।
‘সেবা সংকল্প যাত্রা’-য় ১০টি দল বডনগর থেকে বারাণসী এবং বারাণসী থেকে বডনগরের পথে যাত্রা করছে। জনসেবা, জনসংযোগ, যুব অংশগ্রহণ, সামাজিক কল্যাণ, সাংস্কৃতিক সংযোগ এবং তৃণমূল স্তরে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। যাত্রা ৭ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা।
আলোচনায় সেবাযাত্রীরা যাত্রাপথে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভাগ করে নেন। তাঁরা ‘নমো অ্যাপ’-এ মানুষকে যুক্ত করার উদ্যোগের কথাও জানান। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে আশীর্বাদ পাওয়ার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেবার কথা শুধু মুখে প্রচার না করে কাজের মাধ্যমে তার বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক জীবনে যে পদেই কেউ থাকুন না কেন, মানুষের সেবার পথ থেকে সরে যাওয়া উচিত নয়।
মোদি বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতা বা পদ যতই বড় হোক না কেন, মানুষের সামনে তাঁদের আচরণেই প্রকাশ পাওয়া উচিত যে সেবাই তাঁদের পথ। নিজের সহকর্মীদেরও নিজেদের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি সেবাকে প্রাথমিক কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী পুরনো একটি প্রবাদ উল্লেখ করে বলেন, কোনও ব্যক্তি তীর্থযাত্রা বা যাত্রা শেষে ফিরে এলে তাঁকে প্রণাম করলে সেই যাত্রা থেকে অর্জিত পুণ্যের অর্ধেক প্রণামকারী লাভ করেন—এমন একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে সেবাযাত্রীদের প্রণাম করে তিনিও তাঁদের অর্জিত পুণ্যের অর্ধেক ‘নিয়ে নিচ্ছেন’ বলে রসিকতা করেন।
বডনগর ও বারাণসীর ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বডনগর তাঁর জন্মস্থান এবং বারাণসী তাঁর ‘কর্মভূমি’। তাঁর কথায়, কাশী বাবা বিশ্বনাথের আশীর্বাদধন্য, আর বডনগর হাটকেশ্বর মহাদেবের আশীর্বাদধন্য ভূমি। এই দুই শহরকে যুক্ত করে সেবাযাত্রীরা বড় ধরনের সেবা অভিযান চালাচ্ছেন।
বিজেপি কর্মী হিসেবে নিজের পুরনো দিনের কথা স্মরণ করে মোদি বলেন, তিনিও একাধিক যাত্রায় অংশ নিয়েছেন এবং যাত্রার আয়োজন করেছেন। ফলে আবহাওয়া পরিবর্তন, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাত্রা-সহ বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় বলে তিনি জানেন।
তিনি বলেন, সেবার ভাবনা থেকেই আয়ুষ্মান ভারত-এর মতো বিভিন্ন উদ্যোগের জন্ম হয়েছে। রাজনীতি ও নির্বাচন একদিকে থাকলেও বৃহত্তর লক্ষ্য হল রাষ্ট্র নির্মাণ। তাঁর কথায়, ‘রাজনীতি এক জায়গায়, নির্বাচন এক জায়গায়, কিন্তু আমরা রাষ্ট্র নির্মাণের জন্য।’
২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যের কথাও তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে যুব সমাজের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে হবে। আজকের তরুণ প্রজন্মই বিকশিত ভারতের নির্মাতা এবং তারাই ভবিষ্যতে এই উন্নয়নের সুবিধাভোগী হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
যাত্রাপথে জনসভা, সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের সঙ্গে যোগাযোগের মতো বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন মোদি। তাঁর মতে, এই ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে সংলাপ ও জনঅংশগ্রহণের সেতু তৈরি হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নাগরিক দেবো ভব’-এর নীতি থেকে সেবার ভাবনা তৈরি হয়। গুজরাটে জ্যোতিগ্রাম যোজনা এবং সুজলম সুফলম যোজনার মতো উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মানুষের সেবার মানসিকতা থেকেই এই ধরনের কর্মসূচির জন্ম হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এবং রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মাও উপস্থিত ছিলেন।
সেবাযাত্রীদের পক্ষ থেকে হেমাং তাঁদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘সেবা সংকল্প যাত্রা’র উদ্দেশ্য হল সেবার বার্তা আরও ছড়িয়ে দেওয়া এবং তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করা। তাঁর দাবি, যাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা ১৫৯টি গ্রামের মধ্য দিয়ে যাবেন। বডনগর থেকে বারাণসীগামী দলগুলি বারাণসীতে এবং কাশী থেকে বডনগরগামী দলগুলি বডনগরে জলাভিষেক করবে। প্রতিটি বিরতিতে ২৫ ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
–আইএএনএস



















