নয়াদিল্লি, ২৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): জাল সম্পত্তির নথি ব্যবহার করে এক প্রবীণ নাগরিকের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে ৬৭ বছর বয়সি এক সম্পত্তি ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশের দ্বারকা জেলা পুলিশের অ্যান্টি-অটো থেফট স্কোয়াড (এএটিএস)। অভিযুক্ত ব্রহ্ম স্বরূপ ভরদ্বাজের মাথার দাম ছিল ৫০ হাজার টাকা। প্রায় এক বছর ধরে পলাতক থাকার পর হরিয়ানার সোনিপত থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সাত দিন ধরে প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং ম্যানুয়াল নজরদারি চালানোর পর অভিযুক্তের সন্ধান মেলে। ১৩ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযোগকারী ওই প্রবীণ নাগরিক একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী। তিনি তিহাড় জেলে ফার্মাসিস্ট হিসেবে কাজ করেছিলেন। ২০২৪-২৫ সালে একাধিক জমির প্লট কেনাবেচার প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে প্রতারণা করা হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত এবং তার কয়েকজন পুরুষ ও মহিলা সহযোগী জাল সম্পত্তির নথি ব্যবহার করে ভুয়ো জমির লেনদেন চালাতেন। এর মাধ্যমে ওই প্রবীণের প্রায় ১ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকার পেনশন সঞ্চয় হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় রনহোলা থানায় এফআইআর নম্বর ৭৩০/২৫-এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক ছিল। পরে তার বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা (এনবিডব্লিউ) জারি করা হয়। গত ৩ সেপ্টেম্বরের আদেশ অনুযায়ী, মামলায় পলাতক পাঁচ অভিযুক্তের সন্ধান দিতে ৫০ হাজার টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
পলাতক এবং পুরস্কার ঘোষিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে দ্বারকা এএটিএসকে অভিযুক্তদের শনাক্ত, সন্ধান এবং গ্রেফতারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সাব-ইন্সপেক্টর জিতেন্দ্র, হেড কনস্টেবল সোনু ও মনোজ এবং মহিলা হেড কনস্টেবল মমতা-কে নিয়ে বিশেষ দল গঠন করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন এএটিএস দ্বারকার ইনস্পেক্টর মনীশ যাদব। এসিপি/অপারেশনস সুভাষ মালিকের তত্ত্বাবধানে এবং দ্বারকা জেলার ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ কুশল পাল সিংয়ের সামগ্রিক নির্দেশনায় অভিযানটি চালানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের তথ্য যাচাইয়ের পর তার গতিবিধির উপর বিশেষ নজরদারি শুরু করা হয়। প্রযুক্তিগত তথ্য এবং মাঠপর্যায়ে যাচাইয়ের মাধ্যমে একাধিক সূত্র পাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত সোনিপতে তার অবস্থান নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশের দাবি, ভরদ্বাজ ‘নটবরলাল’-কায়দায় সম্পত্তি প্রতারণা চালাতেন। তার সঙ্গে পুরুষ ও মহিলা আত্মীয় বা সহযোগীরাও যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ। জাল নথি তৈরি করে সম্পত্তির লেনদেন এবং সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করাই ছিল তার কথিত কৌশল। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে পেশ করা হয়। এই ঘটনায় অন্য সহযোগীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।
—আইএএনএস
























