আগরতলা, ২৪ সেপ্টেম্বর: আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে এনডিএ জোটের জয় নিয়ে কমপক্ষে ৯০ শতাংশ নিশ্চিত বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা। তবে পাহাড়ে ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের প্রচারে এখনও তাঁকে দলের পক্ষ থেকে যাওয়ার জন্য বলা হয়নি বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। দলের নেতৃত্বই নির্বাচনী প্রচারের বিষয়টি সামলে নেবেন বলে তাঁকে জানানো হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
সংবাদমাধ্যমের এক প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে এনডিএ জোটের জয় নিয়ে তিনি অন্তত ৯০ শতাংশ নিশ্চিত। তবে দলের পক্ষ থেকে এখনও তাঁকে পাহাড়ে নির্বাচনী প্রচারে যাওয়ার জন্য বলা হয়নি। দলের নেতৃত্বের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং নেতৃত্ব জানিয়েছেন, তাঁরা নিজেরাই নির্বাচনী প্রচারের বিষয়টি সামলে নেবেন। সেই কারণেই আপাতত ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের প্রচার থেকে দূরে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে রাজ্যে নতুন মেডিকেল কলেজের অনুমোদন এবং চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শূন্যপদ পূরণ নিয়েও প্রশ্নের জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে পর্যাপ্ত ফ্যাকাল্টি না থাকলে কীভাবে নতুন মেডিকেল কলেজের অনুমোদন মিলছে—সংবাদমাধ্যমের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেখানে শূন্যপদ পূরণের প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে রাজ্য সরকার সেই পদগুলি পূরণের উদ্যোগ নিচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত আন্তরিক। চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রেও মানুষের কাছে ন্যূনতম চিকিৎসা পরিষেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকার কাজ করছে। নতুন মেডিকেল কলেজের অনুমোদন এবং স্বাস্থ্যক্ষেত্রে পরিকাঠামো ও জনবল বৃদ্ধির বিষয়েও সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, ধর্মনগরে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দলকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দলীয় কার্যালয়ে সংঘর্ষ এবং পরবর্তীতে এক দলীয় নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই কাম্য নয়।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, দলের মধ্যে এমন ঘটনা কোনো অবস্থাতেই বরদাস্ত করা হবে না। এ বিষয়ে দল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংগঠনের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য থাকলেও তা কোনওভাবেই সংঘর্ষ বা অশান্তির পর্যায়ে যাওয়া উচিত নয়।
ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে ঘিরে যখন পাহাড়ে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার জোরদার হয়েছে, সেই সময় মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে নির্বাচনে এনডিএ জোটের জয় নিয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাসের কথা উঠে এসেছে, অন্যদিকে দলের নির্দেশ না পাওয়ায় নিজেকে প্রচার থেকে দূরে রাখার বিষয়টিও স্পষ্ট করেছেন তিনি। পাশাপাশি ধর্মনগরের গোষ্ঠীকোন্দল নিয়ে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিয়ে সংগঠনের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টিও সামনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী।



















