নয়াদিল্লি, ২৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারত শুধু নিজের প্রয়োজন মেটানোর জন্য পণ্য উৎপাদন করছে না, বিশ্বের জন্যও পণ্য তৈরি করছে বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার তিনি বলেন, ভারতের সক্ষমতার ওপর আস্থা রেখেই এই উদ্যোগের পথচলা শুরু হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ পীযূষ গোয়েল লেখেন, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এমন একটি ভাবনার ওপর প্রতিষ্ঠিত, যার মূল বিশ্বাস হল ভারত বিশ্বের জন্য পণ্য তৈরি করতে পারে। তাঁর মতে, এটি শুধুমাত্র একটি মাইলফলক নয়, বরং একটি দেশ নিজের সক্ষমতার ওপর বিশ্বাস রাখলে এবং সরকার ধারাবাহিক সংস্কার ও পদক্ষেপের মাধ্যমে সেই বিশ্বাসকে শক্তিশালী করলে কী অর্জন করা সম্ভব, তারও স্মারক।
২০১৪ সালের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সময় ভারতের উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে নানা আলোচনা ছিল। দেশের বাজারে ব্যবহৃত বহু পণ্য আমদানি করা হতো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেই পরিস্থিতিকে ভারতের ভবিতব্য হিসেবে মেনে নেননি।
পীযূষ গোয়েল বলেন, প্রধানমন্ত্রী এমন একটি ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যবহৃত পণ্যে গর্বের সঙ্গে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ লেখা থাকবে এবং সেই পণ্য গুণমানের জন্য পরিচিত হবে। বর্তমানে সেই স্বপ্ন বাস্তব রূপ নিচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতে সর্বোচ্চ বার্ষিক প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই এসেছে ৯৪.৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত দেশে মোট এফডিআই প্রবাহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বিশ্বমানের উৎপাদন পরিকাঠামো গড়ে তুলতে ন্যাশনাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গ্রিনফিল্ড শিল্প স্মার্ট সিটি গড়ে তোলা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
পীযূষ গোয়েল বলেন, ব্যবসা করার পরিবেশ সহজ করতে বিভিন্ন সংস্কারের মাধ্যমে নিয়মকানুন সরল করা হয়েছে এবং কমপ্লায়েন্সের বোঝা কমানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের ফলে বিনিয়োগ ও উৎপাদনের নতুন সুযোগও তৈরি হয়েছে।
‘প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ’ বা পিএলআই প্রকল্পও উৎপাদন ক্ষেত্রে গতি বাড়িয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত পিএলআই প্রকল্পগুলির আওতায় ২.৪০ লক্ষ কোটি টাকার প্রকৃত বিনিয়োগ হয়েছে। উৎপাদন ও বিক্রির পরিমাণ ২৩.৮ লক্ষ কোটি টাকা এবং রফতানির পরিমাণ ১৫.২ লক্ষ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১৪.৬ লক্ষেরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
ইলেকট্রনিক্স ও টেলিকম, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, গাড়ি, আইটি হার্ডওয়্যার এবং বিশেষ ধরনের ইস্পাত শিল্প পিএলআই প্রকল্প থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পীযূষ গোয়েল আরও বলেন, ‘ওপেন নেটওয়ার্ক ফর ডিজিটাল কমার্স’ বা ওএনডিসি ছোট ব্যবসাগুলিকে বড় সুযোগ করে দিচ্ছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ৪৭০ কোটিরও বেশি অর্ডার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে তাঁর মতে, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র সাফল্যের প্রকৃত চিত্র শুধুমাত্র পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়। এই উদ্যোগ দেশের স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা, উদ্যোক্তা, উৎপাদক, উদ্ভাবক, রফতানিকারক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে, সেটিই এর বড় অর্জন।
তিনি বলেন, “ভারত তৈরি করতে পারে, ভারত উদ্ভাবন করতে পারে এবং ভারত বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে”—এই আত্মবিশ্বাসই ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফল।
‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র যাত্রা এখনও অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ভারতের আরও বড় লক্ষ্য হল দেশকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করা। এর মাধ্যমে ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যও আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
।।।।।।



















