রায়বেরেলি, ২৪ আগস্ট (আইএএনএস): মনুস্মৃতি নিয়ে মন্তব্যের জেরে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর অভিযোগ, রাহুল গান্ধী ভারতের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে অসম্মান করছেন এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও ব্যর্থ হচ্ছেন।
স্বাধীনতা সংগ্রামী রানা বেণী মাধব বক্স সিংয়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রায়বেরেলিতে আয়োজিত ‘ভাব সমর্পণ’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যোগী বলেন, যে সমাজ তার পূর্বপুরুষদের ভুলে যায়, তার কোনও অর্থবহ ভবিষ্যৎ থাকতে পারে না। তাঁর অভিযোগ, কিছু মানুষ পরিকল্পিতভাবে ভারতীয়দের ঐতিহ্য, মূল্যবোধ ও ঐতিহাসিক আদর্শ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছেন।
রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে যোগী বলেন, “রাহুল গান্ধী বলছেন, মহিলাদের মনুস্মৃতির শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে বেরিয়ে আসতে হবে। এই ধরনের বক্তব্য দেখে আমি অত্যন্ত বিস্মিত।”
বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুলের সাংবিধানিক দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন যোগী। তিনি বলেন, রাহুল গান্ধী হিসেবে তাঁর কাছ থেকে দেশের প্রত্যাশা হয়তো খুব বেশি নয়, কিন্তু সংসদের বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁকে গণতন্ত্রের প্রতি জবাবদিহি করতে হবে। ভারতীয় সংবিধানের নামে শপথ নেওয়ার পর দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সমালোচনা করাকে তিনি কীভাবে নিজের অধিকার বলে মনে করেন, সেই প্রশ্নও তোলেন যোগী।
রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে যোগীর আরও অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশের বাইরে গেলে তিনি রাজ্যকে এবং দেশের বাইরে গেলে ভারতকে অপমান করেন। ভারতীয় সেনা সীমান্তে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করলে রাহুল প্রমাণ চান বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দেশের লড়াইয়েও রাহুল গান্ধী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ‘দেশবিরোধী’ শক্তিকে উৎসাহ দেন বলে দাবি করেন যোগী। অযোধ্যায় ভগবান শ্রীরামের অস্তিত্ব নিয়েও কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
‘মনু’ ধারণা বুঝতে হলে রাহুল গান্ধীকে অথর্ববেদ, শতপথ ব্রাহ্মণ ও মৎস্য পুরাণের মতো প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থ পড়ার পরামর্শ দেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী।
যোগী আরও অভিযোগ করেন, ‘আরবান নকশালরা’ ভারতের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করছে এবং রাহুল গান্ধী তাদের প্রভাব থেকে দূরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তাঁর প্রশ্ন, “আপনি কেন ভারতের ঐতিহ্য ধ্বংস করতে চান? কেন ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলতে চান?”
সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে অসম্মান করা এবং প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যের বিষয়েও রাহুল গান্ধীকে সতর্ক করেন যোগী। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীকে অপমান করা শুধু কোনও ব্যক্তিকে আক্রমণ করা নয়, দেশের একটি সাংবিধানিক পদকেও অসম্মান করা।
১৯২৫ সালের কাকোরি ট্রেন অভিযানের ঘটনাকে কংগ্রেস ‘লুট’ বলে উল্লেখ করায় দলটিরও সমালোচনা করেন যোগী। তাঁর দাবি, স্বাধীনতা আন্দোলন এবং সেই সময়ের বিপ্লবীদের যথাযথ সম্মান দেওয়া উচিত।
এর পাশাপাশি অযোধ্যায় উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অজয় রাইয়ের ‘ফিশ ফিস্ট’ নিয়েও কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন যোগী। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস নেতারা ধর্মীয় স্থানে গিয়ে শ্রদ্ধা প্রদর্শনের পর এমন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছেন, যা অযোধ্যার ধর্মীয় আবেগের প্রতি অসম্মানজনক। এই ঘটনাকে তিনি কংগ্রেসের ‘দ্বিচারিতা’ বলে কটাক্ষ করেন।
—আইএএনএস
























