মুজফ্ফরনগর, ২৩ আগস্ট (আইএএনএস): উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগরে ১৭ বছরের এক দলিত নাবালিকাকে অপহরণ করে গণধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তিন দিনের তল্লাশি অভিযানের পর পুলিশ ওই কিশোরীকে উদ্ধার করেছে। ঘটনায় এক চিকিৎসক-সহ দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে রবিবার পুলিশ জানিয়েছে।
ধৃতদের নাম নাজিম এবং চিকিৎসক মহম্মদ আদিল। পুলিশের দাবি, নাজিম ওই নাবালিকাকে অপহরণ করেছিল এবং মহম্মদ আদিল তাকে অপরাধে সহায়তা করেছিল।
নাবালিকা নিখোঁজ হওয়ার খবর এবং তার সঙ্গে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সন্দেহ পাওয়ার পরই সিটি কোতয়ালি থানার পুলিশ ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে। অভিযুক্তদের গতিবিধি চিহ্নিত করতে বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তকারীরা প্রায় ৬০০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করেন বলে জানা গিয়েছে।
শুক্রবার নাবালিকাকে উদ্ধার করার পর ওই রাতেই অভিযুক্ত নাজিমকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। পুলিশের দাবি, পালানোর চেষ্টা করার সময় তার পায়ে গুলি লাগে। পরে তার সহযোগী চিকিৎসক মহম্মদ আদিলকেও গ্রেফতার করা হয়।
নাবালিকার মা ঘটনাটিকে তাঁর মেয়ের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর অত্যাচার হিসেবে বর্ণনা করে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেছেন। তিনি অভিযুক্তদের বাড়ি ও কলেজ-সহ সম্পত্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান।
উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী কপিল দেব আগরওয়াল বলেন, নাবালিকাটি বেশ কয়েক দিন ধরে নিখোঁজ ছিল এবং তাকে উদ্ধারের পর তার পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী একাধিক ব্যক্তি তার উপর বারবার যৌন নির্যাতন চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তিনি বলেন, “কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ সুপারকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে তদন্তে কোনও ধরনের আপস করা যাবে না।”
তদন্তে একটি স্কুল ও একটি হাসপাতালের নাম উঠে এসেছে বলেও জানান মন্ত্রী। তদন্তে তাদের কোনও ধরনের যোগসাজশ বা ভূমিকা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
আগরওয়াল আরও বলেন, মামলায় গ্যাংস্টার্স অ্যাক্ট এবং পকসো আইন-এর সংশ্লিষ্ট ধারাও প্রয়োগ করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪(১) ও ৭০(১) ধারা, পকসো আইন এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতি (নির্যাতন প্রতিরোধ) আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার আদালতে পেশ করার পর দু’জনকেই বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।



















