লখনউ, ২৩ আগস্ট (আইএএনএস): উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রবিবার সমাজবাদী পার্টির (এসপি) বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে অভিযোগ করেন, বিরোধী দলটি রাজ্যের জরাজীর্ণ স্কুল ভবনের যে ভিডিওগুলি সামাজিক মাধ্যমে ছড়াচ্ছে, তার অনেকগুলিই ২০১৭ সালের আগের, অর্থাৎ এসপি সরকারের আমলের। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার ইতিমধ্যেই পুরনো ও বিপজ্জনক স্কুল ভবন চিহ্নিত করে সেগুলির পরিবর্তে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ করছে।
লখনউয়ে মিড-ডে মিলের রাঁধুনিদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, এসপি সরকারের আমলে উত্তরপ্রদেশে আইনশৃঙ্খলা ও শিক্ষাব্যবস্থা উভয়েরই অবনতি হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, সেই সময় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন, দাঙ্গা ও অশান্তি নিয়মিত ঘটনা ছিল এবং উন্নয়ন কার্যত থমকে গিয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কিছু মানুষ সামাজিক মাধ্যমে পুরনো, জরাজীর্ণ ভবনের ছবি ছড়িয়ে সরকারকে সমালোচনা করার চেষ্টা করছেন। এই ভবনগুলির অনেকগুলিই আগের সরকারের আমলের। বর্তমান সরকার এমন ভবন চিহ্নিত করে নতুন ভবন দিয়ে সেগুলি প্রতিস্থাপন করছে।”
যোগী দাবি করেন, ২০১৭ সালের আগে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ ছিল। দরিদ্র পরিবারের শিশুদের প্রচণ্ড গরম কিংবা শীত উপেক্ষা করে স্কুলে যেতে হত। বর্তমানে সরকারি সহায়তায় পড়ুয়াদের ইউনিফর্ম, জুতো, মোজা ও সোয়েটার দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, কস্তুরবা গান্ধী বালিকা বিদ্যালয়ের সম্প্রসারণ, বাল ভাটিকা, আইসিটি ল্যাবরেটরি-সহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি স্কুলগুলিতে পরিকাঠামোর উন্নয়ন করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, রাজ্যের পরীক্ষা ব্যবস্থাও নকলমুক্ত হয়েছে এবং শিক্ষার মান আরও উন্নত করার দিকে সরকার এগোচ্ছে।
এসপি প্রধান অখিলেশ যাদবের নাম না নিয়ে তাঁকে ‘বাবুয়া’ বলে কটাক্ষ করেন যোগী। তাঁর দাবি, সরকার পরিচালনার জন্য সময় ও কঠোর পরিশ্রম দু’টিই প্রয়োজন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নিয়মিত বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও দফতরগুলির কাজ পর্যালোচনা করে।
যোগী আরও অভিযোগ করেন, আগের এসপি সরকারের সময় জমি দখল ছিল ব্যাপক এবং মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে মানুষ উদ্বিগ্ন থাকতেন। তাঁর দাবি, বর্তমানে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে এবং মহিলাদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এদিন প্রধানমন্ত্রী পোষণ যোজনার অধীনে সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে কর্মরত ৩.৫৩ লক্ষ রাঁধুনির জন্য চারটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের মাসিক সম্মানী বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করা হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনাজনিত ক্ষেত্রে ২ লক্ষ টাকা সহায়তা, প্রতি বছর পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসা এবং পোশাকের জন্য দেওয়া বর্তমান অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণ করার ঘোষণা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ১১ জন রাঁধুনির হাতে প্রতীকীভাবে ক্যাশলেস মেডিক্যাল কার্ড তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১,৫০০ জন রাঁধুনি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। একই সঙ্গে জেলা ও তহসিল স্তরেও রাঁধুনিদের সম্মানিত করার কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
যোগী বলেন, এতদিন রাঁধুনিদের জন্য পর্যাপ্ত সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা ছিল না। এখন তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হবে এবং সম্মানীর অর্থ সরাসরি সেই অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে পরিবার ২ লক্ষ টাকা এবং অসুস্থতার ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত হাসপাতালে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাবে।
মিড-ডে মিলের রাঁধুনিদের ভূমিকার প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁদের কাজ শুধু রান্না ও খাবার পরিবেশন করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিশুদের জন্য নির্ধারিত পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করে তাঁরা সুস্থ শৈশব গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
খাবারের পরিচ্ছন্নতা ও গুণমান বজায় রাখার উপরও জোর দেন যোগী। তিনি বলেন, রান্নার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা যাবে না। রান্নাঘরে অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশ রোধ করতে হবে এবং খাবারের গুণমানের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে, যাতে খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো ঘটনা না ঘটে।
— আইএএনএস



















