বেঙ্গালুরু, ২৪ আগস্ট (আইএএনএস): কথিত আদিবাসী কল্যাণ তহবিল কেলেঙ্কারির অভিযোগে কর্নাটকের পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যানমন্ত্রী বি. নাগেন্দ্রর পদত্যাগের দাবিতে সোমবার বিধানসৌধ ঘেরাওয়ের চেষ্টা করল বিজেপি। বিক্ষোভকারীদের আটকাতে বিধানসৌধের চারটি প্রবেশপথেই কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে পুলিশ। আন্দোলনকারীদের একাংশকে আটকও করা হয়েছে।
বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা গাড়ি, অটোরিকশা এবং মেট্রোয় করে বিধানসৌধের বিভিন্ন প্রবেশপথে জড়ো হন। তবে পুলিশ তাঁদের বিধানসৌধ চত্বরে ঢুকতে দেয়নি। অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা তথা বিধান পরিষদের সদস্য চালাভাদি নারায়ণস্বামীর নেতৃত্বে ফ্রিডম পার্কেও পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়। সেখানে বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন।
বিকাশসৌধের দিক দিয়ে বিপুল সংখ্যক বিজেপি কর্মী বিধানসৌধে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। গেরুয়া উত্তরীয় হাতে নিয়ে তাঁরা ব্যারিকেড টপকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ তাঁদের পিছনে ঠেলে দেয় এবং বেশ কয়েকজন কর্মীকে, তাঁদের মধ্যে মহিলারাও ছিলেন, বিএমটিসি বাস ও অন্যান্য গাড়িতে তুলে আটক করে।
বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন বিজেপির বিধান পরিষদ সদস্য এন. রবিকুমার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিধান পরিষদের সদস্য সি.টি. রবি-সহ দলের অন্যান্য নেতারা। আন্দোলনকারীরা নাগেন্দ্রর পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। ‘আমরা বিচার চাই’, ‘পদত্যাগ করতেই হবে’—এই স্লোগানের পাশাপাশি তহবিলের টাকা কোথায় গেল তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। কিছু বিক্ষোভকারী অভিযোগ করেন, দলিত কল্যাণের জন্য বরাদ্দ অর্থ অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি বি.ওয়াই. বিজয়েন্দ্র এবং বিরোধী দলনেতা আর. অশোকের নেতৃত্বে আরেকটি দলও বিধানসৌধে প্রবেশের চেষ্টা করে। পুলিশ তাঁদেরও বাধা দেয় এবং বেশ কয়েকজন নেতাকে আটক করে। অশোক ও বিজয়েন্দ্রকেও পুলিশ জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।
পুলিশের গাড়ির ভিতর থেকেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আর. অশোক। তাঁর অভিযোগ, দলিত কল্যাণের জন্য বরাদ্দ অর্থ কংগ্রেস সরকার অপব্যবহার করেছে। তিনি দাবি করেন, দলিতদের কল্যাণমূলক প্রকল্পের টাকা তাঁদের কাছে ফেরত দেওয়া উচিত।
অশোকের অভিযোগ, ভাল্মীকি কর্পোরেশন থেকে প্রায় ১৮০ কোটি টাকা লুট করা হয়েছে এবং সেই অর্থ জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতেই বিধানসৌধের সামনে বিক্ষোভ করছে বিজেপি। একইসঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপেরও সমালোচনা করেন তিনি।
বিজয়েন্দ্র বলেন, মন্ত্রী নাগেন্দ্রকে মন্ত্রিসভা থেকে সরাতে কংগ্রেস সরকারের অনীহার প্রতিবাদেই এই আন্দোলন। তাঁর অভিযোগ, সরকার দুর্নীতিকে সমর্থন করছে বলেই বিজেপিকে বিধানসৌধ ঘেরাও করতে হচ্ছে।
কংগ্রেসের তরফে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘গুন্ডাগিরি’র অভিযোগ প্রসঙ্গে বিজয়েন্দ্র পাল্টা দাবি করেন, রাজনীতিতে গুন্ডাগিরির মাধ্যমে কারা উঠে এসেছে তা গোটা রাজ্যের মানুষ জানেন। দলিতদের স্বার্থে বিজেপি ও জেডি(এস) যৌথভাবে আন্দোলন করছে বলেও দাবি করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, পুলিশের পদক্ষেপ বা সরকারের চাপের কারণে তাঁদের আন্দোলন থামবে না।
বিজেপি বিধায়ক এন. রবিকুমারের দাবি, তদন্তে দেখা গেছে অন্য রাজ্যের নির্বাচনে ১০০ কোটিরও বেশি টাকা খরচ করা হয়েছে এবং বল্লারি নির্বাচনে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তাই এই কেলেঙ্কারিকে সরকার কোনওভাবেই হালকাভাবে নিতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কর্নাটক মহর্ষি ভাল্মীকি তফসিলি উপজাতি উন্নয়ন কর্পোরেশনে কথিত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিজেপি ইতিমধ্যেই আন্দোলন জোরদার করেছে। তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের কল্যাণমূলক প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ অর্থ কথিতভাবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের জবাবদিহি এবং সেই অর্থ ফেরতের দাবিতে দলটি আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
—আইএএনএস



















