সাব্রুম, ২৩ আগস্ট: শিক্ষকের মারধরে সাব্রুম বিদ্যাজ্যোতি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্র গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে সাব্রুম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে ছাত্রের পরিবার।
জানা গেছে, কলাছড়া বাজার সংলগ্ন মনসিং পাড়ার বাসিন্দা ১৩ বছরের বিকাশ ত্রিপুরা সাব্রুম বিদ্যাজ্যোতি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। পরিবারের অভিযোগ, গত ১১ আগস্ট দ্বিতীয় পিরিয়ডে কম্পিউটার শিক্ষক প্রতীক চক্রবর্তী সপ্তম শ্রেণির ক্লাসে প্রবেশ করেন। ক্লাস চলাকালীন ছাত্রছাত্রীদের হাতের লেখা পরীক্ষা করার সময় বিকাশের খাতার নিচে খাবারের একটি প্যাকেট দেখতে পান শিক্ষক।
অভিযোগ, বিকাশ সেটি ক্লাসরুমের জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দিতে গেলে শিক্ষক তাকে ডেকে নেন। এরপর শিক্ষক মেজাজ হারিয়ে একাধিক বেত দিয়ে বিকাশকে বেধড়ক মারধর করেন বলে পরিবারের অভিযোগ।
ঘটনার পর বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায় বিকাশ। পরিবারের দাবি, মারধরের কারণে প্রচণ্ড ব্যথায় ওই রাতে ঘুমাতে পারেনি সে। পরদিন ১২ আগস্ট পরিবারের সদস্যরা আহত বিকাশকে সঙ্গে নিয়ে স্কুলে যান এবং পুরো বিষয়টি স্কুলের প্রধান শিক্ষক চন্দন কুমার দেবনাথকে জানান।
পরে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ছাত্রের অভিভাবকদের নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়। আলোচনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ বিকাশের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার দায়িত্ব নেয় বলে জানা গেছে।
তবে পরিবারের দাবি, পরবর্তীতে বিকাশের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কলাছড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে গত ১৯ আগস্ট সাব্রুম থানায় অভিযোগ দায়ের করে বিকাশের পরিবার। পরিবারের অভিযোগ, থানায় মামলা দায়েরের খবর পাওয়ার পর স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ আরও তিনজন শিক্ষক-শিক্ষিকা বিকাশের কলাছড়ার বাড়িতে যান। সেখানে পরিবারের সদস্যদের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয় বলে অভিযোগ।
তবে সেই অনুরোধে রাজি হননি পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের প্রশ্ন, ঘটনার পর এতদিন স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কেন কোনও খোঁজ নেওয়া হয়নি? ছাত্রকে মারধরের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পরিবার।


















