আগরতলা, ২৩ আগস্ট: আগামী ২৭ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে ত্রিপুরা বিধানসভার অধিবেশন। তার আগে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) প্রদান এবং অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের দাবিতে রাজপথে নামল বামপন্থী সরকারি কর্মচারী সংগঠন ত্রিপুরা সরকারি কর্মচারী সমিতি। রবিবার আগরতলা শহরে সংগঠনের উদ্যোগে একটি মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সপ্তম বেতন কমিশন অনুযায়ী বিভিন্ন ভাতা ও বকেয়া ১৯ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা অবিলম্বে প্রদানসহ একাধিক দাবিতে মিছিল করেন সংগঠনের সদস্যরা। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের আদলে রাজ্যেও দ্রুত অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়।
মিছিলটি আগরতলা শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে প্যারাডাইস চৌমুহনী এলাকায় এসে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় একটি সভা। সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বিজেপি, তিপরা মথা ও আইপিএফটি জোট সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান।
জিতেন্দ্র চৌধুরীর অভিযোগ, রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের বিভিন্ন দাবিকে উপেক্ষা করছে সরকার। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকারের মেয়াদ আর বেশি দিন নেই। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে বিজেপি শিক্ষক, কর্মচারী ও বেকার যুবকদের সামনে একের পর এক প্রতিশ্রুতি নিয়ে হাজির হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিপুল সংখ্যক চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও গত আট বছরে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি বলে দাবি করেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, বেকার যুবকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে এবং রাজ্যের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
এদিনের সভা থেকে রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিষেবা ও সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধির বিষয়েও সরব হন জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, একটি সুসংগঠিত বিদ্যুৎ সংস্থাকে বর্তমান সরকার ঘাটতি ও সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যুৎ মাশুল ও বিভিন্ন চার্জ বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এর প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামার পর সরকার ভর্তুকির ঘোষণা করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে বিরোধী দলনেতা বলেন, নিজেদের ন্যায্য দাবিতে গণতান্ত্রিক আন্দোলন কোনোভাবেই থামিয়ে দেওয়া যাবে না। কর্মচারীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে তিনি পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
কর্মসূচির শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে ১৩ দফা দাবিসংবলিত একটি দাবিপত্র বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। দাবিপত্র গ্রহণ করে তিনি জানান, আসন্ন বিধানসভা অধিবেশনে কর্মচারীদের দাবিগুলি নিয়ে তিনি সরব হবেন এবং বিষয়গুলি বিধানসভায় উত্থাপন করবেন। এদিনের কর্মসূচিতে ত্রিপুরা সরকারি কর্মচারী সমিতির নেত্রী মহুয়া রায়-সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃত্ব ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
———-


















