News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • বন্যা পরিস্থিতিতে রাজ্যে ১৭টি ত্রাণ শিবির, আশ্রয়ে ৪১০ পরিবারের ১৩৫২ জন
Image

বন্যা পরিস্থিতিতে রাজ্যে ১৭টি ত্রাণ শিবির, আশ্রয়ে ৪১০ পরিবারের ১৩৫২ জন

আগরতলা, ২৩ আগস্ট: গতকালকের প্রবল বৃষ্টিপাতের জেরে বন্যার সম্মুখীন আড়ালিয়া, চন্দ্রপুর ও বলদাখাল এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ। গতকাল ভারী বর্ষণের ফলে বলদাখালসহ বিভিন্ন এলাকার নদী ও খালের জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যায়। এর জেরে জলমগ্ন হয়ে পড়ে একাধিক বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকা। এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের নিরাপদ আশ্রয় দিতে মোট ১৭টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই ত্রাণ শিবিরগুলিতে বর্তমানে ৪১০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। মোট আশ্রিতের সংখ্যা ১,৩৫২ জন।

টানা বৃষ্টির জেরে জলস্তর বাড়তে থাকায় আগরতলার চন্দ্রপুর সংলগ্ন বলদাখাল ও শ্রীলঙ্কা বস্তি এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি দিয়েছে। বিস্তৃর্ণ এলাকার বাড়ি ঘরে জল ঢুকে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়শিবির খোলা হয়েছে। এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছে মহকুমা ও জেলা প্রশাসন। পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে রবিবার এলাকায় যান বিধায়ক রতন চক্রবর্তী এবং জিরানিয়া মহকুমা শাসক অনিমেষ ধর।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জিরানিয়ায় মোট ৭ টি ত্রাণ শিবিরে ১২০টি পরিবারের ২৮৯ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে মান্দাই গার্লস স্কুলে ১২টি পরিবারের ১৪ জন, অমুল্য বিয়ে বাড়িতে ৩০টি পরিবারের ৭৫ জন, বিদ্যাচরণ আইসিডিএস কেন্দ্রে ১২টি পরিবারের ২৪ জন এবং মোহনপুর এসবি স্কুলে ৭টি পরিবারের ১৯ জন রয়েছেন। এছাড়া কাওয়াবন ধ্রুবতারা ক্লাবে ৪৫টি পরিবারের ১১২ জন, পুরাতন আগরতলা উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২টি পরিবারের ৮জন এবং শ্যামসুন্দর কলোনি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ১২টি পরিবারের ৩৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

আগরতলা সদর এলাকায় ৫টি ত্রাণ শিবিরে মোট ৮৭টি পরিবারের ৩৩০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। স্বামী দয়ালানন্দ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২৭টি পরিবারের ১১৬ জন, হৃষিদাস কলোনি জেবি স্কুলে ৩১টি পরিবারের ১৪৭ জন, এএমসি ওয়ার্ড অফিসের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ১০টি পরিবারের ২০ জন, বেণীমাধব বিদ্যাপীঠ ইএমএসবি স্কুলে ১৭টি পরিবারের ৩৯ জন এবং মহাত্মা গান্ধী মেমোরিয়াল উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২টি পরিবারের ৮জন রয়েছেন।

তেলিয়ামুড়ায় ২ টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। ত্রিশাবাড়ি জেবি স্কুলে ২৮টি পরিবারের ৯৮ জন এবং খামারবাড়ি জেবি স্কুলে ২২টি পরিবারের ৭৬ জন আশ্রয় নিয়েছেন। দুই শিবির মিলিয়ে মোট ৫০টি পরিবারের ১৭৪ জন রয়েছেন।

খোয়াইয়ে ৩টি ত্রাণ শিবিরে মোট ১৫৩টি পরিবারের ৫৫৯ জন আশ্রয় নিয়েছেন। পাবলিক লাইব্রেরি ও ইনডোর জিম সংলগ্ন সীতেশ স্মৃতি কমিউনিটি হল এলাকায় ১ টি পরিবারের ৩ জন, লালছড়া উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮২টি পরিবারের ৩৩৮ জন এবং জীবনানন্দ বিদ্যামন্দির স্কুলে ৭০টি পরিবারের ২১৮ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যের বন্যাকবলিত এলাকাগুলিতে মোট ১১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১ টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে, ১ টি বাড়ি গুরুতরভাবে এবং ১১৩টি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বন্যায় এখনও পর্যন্ত কোনো মানুষের মৃত্যুর খবর নেই। আহতের সংখ্যাও শূন্য বলে সরকারি তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি কিংবা স্কুল ভবনেরও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ শিবিরগুলিতে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও বিভিন্ন দপ্তর।

Releated Posts

পুনর্বাসিত ব্রু-রিয়াং জনগোষ্ঠীর আর্থিক উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ: মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৩ আগস্ট: কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় রাজোর রু শরণার্থীরা পুনর্বাসন পেয়েছেন। কিন্তু শুধু…

ByByReshmi Debnath Aug 23, 2026

বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা: মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা আজ জানিয়েছেন যে, রাজ্যে বন্যা সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার কিছু স্থায়ী পদক্ষেপ…

ByByReshmi Debnath Aug 23, 2026

প্রবল বর্ষণে প্লাবিত রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা, দুর্গতদের পাশে থাকার বার্তা সাংসদ বিপ্লবের

আগরতলা, ২৩ আগস্ট: প্রবল বর্ষণের জেরে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলাসহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের…

ByByReshmi Debnath Aug 23, 2026

বিপদসীমার কাছাকাছি হাওড়ার জলস্তর, জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শনে বিধায়ক রতন চক্রবর্তী এবং জিরানিয়া মহকুমা শাসক

আগরতলা, ২৩ আগস্ট: টানা বৃষ্টির জেরে জলস্তর বাড়তে থাকায় আগরতলার চন্দ্রপুর সংলগ্ন বলদাখাল ও শ্রীলঙ্কা বস্তি এলাকায় বন্যা…

ByByReshmi Debnath Aug 23, 2026

Leave a Reply

Scroll to Top