মুম্বই, ২৪ আগস্ট (আইএএনএস): যুবসমাজকে ঘিরে রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং সরকারি স্কুলের মিড-ডে মিল প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মহারাষ্ট্রের শাসক বিজেপি ও মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশকে তীব্র আক্রমণ করল শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে)। দলের মুখপত্র ‘সামনা’-র সম্পাদকীয়তে স্কুল পড়ুয়াদের নিম্নমানের খাবার পরিবেশন এবং বিজেপির যুব সমাবেশে অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
সম্পাদকীয়তে পুনের আম্বেগাঁওয়ের একটি সরকারি স্কুলের মিড-ডে মিলের প্রসঙ্গ তুলে দাবি করা হয়, পড়ুয়াদের এমন শক্ত শুকনো মটরশুঁটি পরিবেশন করা হয়েছিল, যা প্রেসার কুকারে ১৩ বার সিটি দেওয়ার পরও সেদ্ধ হয়নি। শিবসেনা (উদ্ধব) অভিযোগ করেছে, খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকা নাগপুরের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবিশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
ঠাকরে শিবিরের আরও দাবি, ওই ব্যবসায়ী নাগপুরের রেশমবাগ ময়দানে বিজেপির সাম্প্রতিক ‘Gen Z’ যুব সমাবেশে আর্থিক সহায়তা দিয়েছিলেন। সম্পাদকীয়তে অভিযোগ করা হয়েছে, নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করে সরবরাহকারী ঠিকাদাররা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এবং স্কুল পড়ুয়াদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলছেন। একইসঙ্গে কটাক্ষ করে বলা হয়েছে, “আগামী দিনে তাঁর মিথ্যার মটরশুঁটি আর সেদ্ধ হবে না।”
মহারাষ্ট্রে যুব ভোটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই এই আক্রমণ সামনে এসেছে। সম্প্রতি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী পুনেতে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখানে বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া ও যুবক-যুবতী উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেছে ঠাকরে শিবির।
‘সামনা’-র সম্পাদকীয়তে অভিযোগ করা হয়েছে, রাহুল গান্ধীর ওই অনুষ্ঠানের জন্য প্রথমে পুলিশি অনুমতি দিতে আপত্তি জানানো হয়েছিল। পরে ৩০ থেকে ৩৫টি কঠোর শর্তে অনুমতি দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের আগে রাজনৈতিকভাবে উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি কংগ্রেস কর্মীদের বিরুদ্ধেই পুলিশ মামলা করেছে বলে দাবি করেছে শিবসেনা (উদ্ধব)।
সম্পাদকীয়তে আরও দাবি করা হয়েছে, রাহুল গান্ধী বিজেপিকে কার্যত চাপে ফেলে দিয়েছেন এবং মহারাষ্ট্রের যুবসমাজ বিজেপির প্রতি শুধু ক্ষুব্ধ নয়, গভীরভাবে অসন্তুষ্ট। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবিশের একই ধরনের বক্তৃতা, হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের রাজনীতি, স্টার্টআপের প্রতিশ্রুতি এবং কথিত ‘ভুয়ো দেশপ্রেম’-এর প্রচারে মানুষ ক্লান্ত বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।
রাহুল গান্ধীর ইন্টার্যাক্টিভ কর্মসূচিগুলিকে ফড়নবিশ ‘পেইড পাবলিসিটি ইভেন্ট’ বলে মন্তব্য করে তদন্তের কথা বলেছিলেন। তার জবাবে ঠাকরে শিবির বিজেপিকে নিজেদের যুব কর্মসূচির খরচ এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে আসা অর্থের উৎস আগে অডিট করার দাবি জানিয়েছে।
শিবসেনা (উদ্ধব)-র অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবিশ রাস্তা ও গর্ত-কাণ্ডে নজর দিচ্ছেন না। নাশিকে গর্তে পড়ে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাঁদের মধ্যে সাতজনই Gen Z-এর সদস্য বলেও সম্পাদকীয়তে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের খাদ্য সংগ্রহ ও সরবরাহে বড় ধরনের দুর্নীতি রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শিক্ষিত বেকারত্বের বিষয়েও সরকারকে নিশানা করেছে ঠাকরে শিবির। তাদের অভিযোগ, স্নাতক যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ না বাড়িয়ে তাঁদের নিম্নমানের চাকরির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে এবং সরকারি চুক্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় পদ্ধতিগত দুর্নীতি উপেক্ষা করা হচ্ছে।
সম্পাদকীয়র শেষে যুবসমাজের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ চরমে পৌঁছাচ্ছে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশকে অন্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার আগে আত্মসমালোচনা করার পরামর্শ দিয়েছে শিবসেনা (উদ্ধব)।
—আইএএনএস


















