কলকাতা, ২৪ আগস্ট (আইএএনএস): কলকাতার উত্তর প্রান্তে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে বাঁকরায় একটি গাড়ির শোরুমে সোমবার ভোরে ভয়াবহ আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডে ২২টি নতুন গাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছে এবং আরও আটটি গাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর নেই।
ভোরে আগুন দ্রুত ভয়াবহ আকার নিলেও দমকলের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। মোট আটটি দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে শোরুমের ভিতরে কোনও অদৃশ্য আগুনের উৎস বা ‘হিডেন ফায়ার পকেট’ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে কুলিং প্রক্রিয়া শুরু হয়।
রাজ্য দমকল দফতরের এক আধিকারিক জানান, ভোর প্রায় ৫টা নাগাদ স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথম শোরুম থেকে আগুনের শিখা দেখতে পান। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিকটবর্তী দমকল কেন্দ্রে জানানো হয়। প্রথমে পাঁচটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে আরও তিনটি ইঞ্জিন সেখানে পৌঁছয়।
দমকল আধিকারিক জানান, শোরুমের আগুন নেভানোর পাশাপাশি পাশের নির্মাণগুলিতে আগুন ছড়িয়ে পড়া আটকানোও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। শোরুমে ঢোকার পথ সরু হওয়ায় প্রাথমিকভাবে দমকলকর্মীদের কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর শোরুমে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দমকল আধিকারিকদের দাবি, আগুন নেভানোর পুরো প্রক্রিয়া চলাকালীন শোরুম বা সার্ভিস সেন্টারের কোনও কর্মীকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।
আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। দমকল দফতরের আধিকারিক জানান, তদন্ত চলছে। শোরুম কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, তা স্পষ্ট হবে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই পশ্চিমবঙ্গে দুটি বড় হোটেল অগ্নিকাণ্ডে মোট ১৮ জনের মৃত্যু হয়। বীরভূমের তারাপীঠে মন্দির সংলগ্ন হোটেল বিদেষিণীতে আগুন লেগে নয়জনের মৃত্যু হয়েছিল। পরে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে আগুনে আরও নয়জনের মৃত্যু হয়, যাঁদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন।
—আইএএনএস



















