প্রয়াগরাজ, ৮ আগস্ট : দেশের দুর্নীতিগ্রস্ত ও ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ছাত্ররা এবার সরব হয়েছে। তাদের এই আন্দোলনের আওয়াজই ভবিষ্যতে পরিবর্তন আনবে বলে মন্তব্য করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, ছাত্র ও যুব সমাজের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে তিনি সবসময় তাঁদের পাশে থাকবেন।
প্রয়াগরাজের কেপি ইন্টার কলেজে আয়োজিত ‘ছাত্রদের আওয়াজ’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রীই প্রমাণ করছে যে দেশের তরুণ প্রজন্ম দুর্নীতি ও দুর্বল শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। রাহুল বলেন, আমরা ছাত্র ও যুবকদের আওয়াজ তুলে ধরছি। আপনাদের অধিকারের লড়াইয়ে আমি সবসময় দাঁড়িয়েছি এবং ভবিষ্যতেও দাঁড়িয়ে থাকব।
উত্তরপ্রদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও সরব হন তিনি। তাঁর অভিযোগ, যোগী আদিত্যনাথ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে রাজ্যে একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। চাইলে এমন একাধিক ঘটনার তালিকা তিনি গুনে গুনে বলতে পারেন বলেও দাবি করেন রাহুল।
প্রয়াগরাজের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন কংগ্রেস নেতা। তিনি বলেন, তাঁর পরিবারের বাড়ি ছিল এই শহরে এবং এখানে এসে তাঁর সবসময় ভালো লাগে। একসময় প্রয়াগরাজ জ্ঞানচর্চার অন্যতম কেন্দ্র ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাহুল বলেন, আজ আমি আপনাদের সঙ্গে তিনটি বিষয় নিয়ে কথা বলতে এসেছি, দুঃখ, ডেটা এবং সম্পদ।
দেশের তরুণ প্রজন্মকে ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে প্রায় ৪০ কোটি যুবক-যুবতী রয়েছেন। তাঁর মতে, একবিংশ শতাব্দীতে ভারতের অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ মূলত দুটি শক্তির উপর নির্ভর করবে যুবশক্তি এবং ডেটা। তিনি বলেন, যুবশক্তি সাথে ডেটা হল একবিংশ শতাব্দীর অর্থনীতি।
রাহুলের বক্তব্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর যুগে ডেটার গুরুত্ব অপরিসীম। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁদের ডেটা ছাড়া এআই-এর কোনও অর্থ নেই। ডেটা ব্যবহার করে এআই তৈরি করা সম্ভব, কিন্তু এআই দিয়ে ডেটা তৈরি করা যায় না।
তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণদের মেধা, সক্ষমতা এবং কল্পনাশক্তিই ভারতের আসল সম্পদ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুব জনসংখ্যার দেশগুলির মধ্যে ভারত অন্যতম। এই যুবশক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়েই দেশের ভবিষ্যৎ তৈরি হবে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে একইসঙ্গে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষার নামে পরিবারের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মেডিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করেও বহু তরুণ শেষ পর্যন্ত উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন না।
রাহুলের দাবি, দেশে প্রতি হাজার যুবকের মধ্যে মাত্র ১২ জনের মতো চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, শুধু ডিগ্রি বা সার্টিফিকেট পেলেই কর্মসংস্থান নিশ্চিত হচ্ছে না।
ডেটা নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান তিনি। রাহুলের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের ডেটা সংগ্রহ করে তা বড় শিল্পগোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদনমূলক কনটেন্টে তরুণদের ব্যস্ত রাখাকে তিনি একবিংশ শতাব্দীর ‘নেশা’ বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, তরুণদের হাতে বিপুল সম্ভাবনা ও ডেটা থাকলেও তাঁরা এমন একটি ব্যবস্থার মধ্যে আটকে রয়েছেন, যা তাঁদের সেই শক্তিকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে দিচ্ছে না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বেশ কয়েকজন ছাত্রও মঞ্চে উঠে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে নিজেদের সমস্যা ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্য শোনেন বিরোধী দলনেতা এবং ছাত্রদের বিভিন্ন দাবির প্রতি সমর্থন জানান।


















