আগরতলা, ২৮ জুলাই: রাজ্যে আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিল্প ও ব্যবসার জন্য মূলধন সংগ্রহ সহজ করতে ত্রিপুরা সরকার ও ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (এনএসই)-এর মধ্যে মঙ্গলবার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ড.) মানিক সাহা এই উদ্যোগকে রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ অনেক সহজলভ্য হলেও এখনও বহু মানুষ নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত বিনিয়োগ ব্যবস্থা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না। তাই সাধারণ মানুষের মধ্যে আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ বিনিয়োগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
অতীতের প্রতারণামূলক বিনিয়োগ সংস্থার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সারদা ও রোজ ভ্যালির মতো চিটফান্ড সংস্থার প্রলোভনে পড়ে ত্রিপুরার বহু মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সেবি নিয়ন্ত্রিত নিরাপদ বিনিয়োগ ব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা সময়ের দাবি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সেবি ও ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের এই উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষ কোথায় এবং কীভাবে নিরাপদে বিনিয়োগ করতে হবে সে সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাবেন। আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধিই এই সহযোগিতার অন্যতম বড় সাফল্য হবে।
তিনি আরও বলেন, এই সমঝোতা স্মারকের ফলে রাজ্যের সরকারি সংস্থাগুলি (পিএসইউ) শুধুমাত্র ব্যাংক ঋণ বা রাজ্য সরকারের বাজেট বরাদ্দের ওপর নির্ভর না করে পুঁজিবাজার থেকে তহবিল সংগ্রহের সুযোগ পাবে। এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত বন্ডসহ বিভিন্ন আর্থিক উপকরণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে।
গত ছয় বছরে বর্তমান সরকারের আমলে ত্রিপুরার মোট রাজ্য অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিএসডিপি) এবং মাথাপিছু আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আশা, এনএসই-র সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব রাজ্যের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) খাতও বিশেষভাবে উপকৃত হবে। তাদের জন্য আর্থিক সংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও শক্তিশালী হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই সমঝোতা স্মারকে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তর, দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তর এবং ত্রিপুরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (টিআইডিসি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই অংশীদারিত্ব রাজ্যে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিল্পোন্নয়নের পথ সুগম করবে।
অনুষ্ঠানের শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই সমঝোতা স্মারক ত্রিপুরার জন্য এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি, ব্যবসার জন্য উন্নত অর্থায়নের সুযোগ এবং রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা সম্ভব হবে।



















