কলকাতা, ২৮ জুলাই (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মী ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতর মঙ্গলবার রাজ্যজুড়ে একসঙ্গে ৯৯ জন ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (বিডিও)-এর বদলির নির্দেশ জারি করেছে। গ্রামীণ প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে এই রদবদল করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
চলতি বছরের মে মাসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষস্তরে একাধিক রদবদল হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এবার সেই ধারাবাহিকতায় গ্রামীণ প্রশাসনের মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত বিডিওদেরও ব্যাপকভাবে বদলি করা হল।
রাজ্য প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, নতুন পদায়নে ২০১৮ থেকে ২০২৫ ব্যাচের তরুণ ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস (ডব্লিউবিসিএস) আধিকারিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকারের আশা, তরুণ প্রশাসনিক আধিকারিকদের নেতৃত্বে গ্রামীণ উন্নয়নমূলক কাজ আরও গতি পাবে।
সূত্রের খবর, ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থার বহু তৃণমূল কংগ্রেস-সমর্থিত প্রধান ও উপপ্রধান নিয়মিত অফিসে আসছেন না। এর ফলে বিভিন্ন জেলায় গ্রামীণ নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতেই বিডিও স্তরে ব্যাপক রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহে বিধানসভায় পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত (দ্বিতীয় সংশোধনী) বিল, ২০২৬ পাস হয়। গ্রামীণ প্রশাসনে স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং পরিষেবা প্রদানের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাই এই আইনের মূল লক্ষ্য।
নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন, ১৯৭৩-এর একাধিক ধারায় পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। বিশেষ করে পঞ্চায়েতের তিন স্তরের নির্বাচিত প্রধানদের বিল অনুমোদন ও স্বাক্ষরের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করা হবে। ভবিষ্যতে নির্বাচিত প্রধানরা শুধুমাত্র উন্নয়নমূলক প্রস্তাবে অনুমোদন দেবেন, আর বিল অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের দায়িত্ব থাকবে প্রশাসনিক আধিকারিকদের হাতে।
বিধানসভায় আলোচনায় অংশ নিয়ে পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “এই বিলের উদ্দেশ্য নির্বাচিত পঞ্চায়েত প্রধানদের সাংবিধানিক ক্ষমতা খর্ব করা নয়। বরং গ্রামীণ প্রশাসনে দুর্নীতি ও কমিশন প্রথা রোধ করাই এর লক্ষ্য। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা প্রস্তাব অনুমোদন করবেন, কিন্তু বিল ছাড় ও অর্থ অনুমোদনের দায়িত্ব থাকবে আমলাদের উপর।”
–আইএএনএস



















