আগরতলা, ২৮ জুলাই: আগরতলার মহারাজা বীর বিক্রম (এমবিবি) বিমানবন্দরের বাইরে এক মহিলা যাত্রী ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনায় দুই অটোচালককে গ্রেপ্তার করেছে এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ। আজ এই গ্রেপ্তারির মাধ্যমে বহুল আলোচিত ঘটনায় প্রথম বড় পদক্ষেপ নিল পুলিশ।
গত ২৪ জুলাই চেন্নাই থেকে অসুস্থ বাবাকে নিয়ে আগরতলায় ফেরেন বিনীতা ঘোষ। বিমানবন্দর থেকে সিদ্ধি আশ্রম যাওয়ার জন্য তিনি একটি উবের অটো বুক করেন। অভিযোগ, বিমানবন্দরের গেটের বাইরে স্থানীয় কয়েকজন অটোচালক উবের অটোটি আটকে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেন এবং যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।
বিনীতা ঘোষের অভিযোগ অনুযায়ী, এক অটোচালক উবের অটোর চাবি কেড়ে নেন। এরপর কয়েকজন চালক গাড়িটি ঘিরে ধরে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এমনকি তাঁদের দাবি ছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারবে না। পরে উবের চালক কোনওভাবে চাবি উদ্ধার করে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেন। ঘটনার পর পৃথকভাবে অভিযোগ দায়ের করেন বিনীতা ঘোষ এবং উবের চালক শ্রীরাম দেবনাথ। শ্রীরাম দেবনাথ অভিযোগ করেন, তাঁকে যাত্রী নিয়ে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে, হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয়েছে, যার ফলে তিনি আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক হয়রানির সম্মুখীন হন।
তদন্তে পরিবহণ দপ্তর অভিযুক্ত হিসেবে দুই অটোচালককে চিহ্নিত করে। তারা হলেন দীপঙ্কর দেবনাথ (অটো নম্বর টিআর০১কে২৩৬৫) এবং ঝুটন আচার্য (অটো নম্বর টিআর০১এফ২৯৮৮)। তাঁদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পারমিট বাতিলের প্রস্তাব দিয়ে শোকজ নোটিশও জারি করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ তাদের হাতে রয়েছে এবং মোটরযান আইনের অধীনে এ ধরনের আচরণ গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজ্যজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিমানবন্দরে অ্যাপভিত্তিক পরিবহণ পরিষেবার গাড়িগুলিকে নিয়মিতভাবে স্থানীয় অটোচালকদের একটি সিন্ডিকেট বাধা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করা, চালকদের জন্য বাধ্যতামূলক ইউনিফর্ম ও পরিচয়পত্র এবং অ্যাপভিত্তিক পরিবহণ পরিষেবার নির্বিঘ্ন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নিতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও বিমানবন্দর পরিবহণ ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
























