নিজস্ব প্রতিনিধি, বিশালগড়, ২২ জুলাই: সিপাহিজলা জেলায় ফের দুঃসাহসিক হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে মারধর এবং তাঁর স্ত্রীকে সামনে রেখেই স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে তিন দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার গভীর রাতে বিশালগড় মহকুমার গোলাঘাটি এলাকার সদারামহাটিতে। ইতিমধ্যেই তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে টাকারজলা থানার পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট আশিষ ঘোষ মঙ্গলবার রাতে আগরতলায় নিজের অফিসের কাজ শেষ করে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে গোলাঘাটির বাড়ির উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন। রাতের অন্ধকারে সদারামহাটি এলাকায় পৌঁছাতেই তিন দুষ্কৃতী পরিকল্পিতভাবে তাঁদের গাড়ির গতিরোধ করে।
অভিযোগ, এরপর দুষ্কৃতীরা আশিষ ঘোষকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করে। তাঁকে বাঁচাতে গেলে তাঁর স্ত্রীর গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি দম্পতির কাছ থেকে নগদ টাকাও লুট করে অভিযুক্তরা।
দম্পতির চিৎকারে আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে এলে দুষ্কৃতীদের মধ্যে দু’জন পালিয়ে যায়। তবে স্থানীয় মানুষের তৎপরতায় বিশ্বজিৎ রায় নামে এক অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলেই আটক করা হয়। পরে তাঁকে টাকারজলা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পলাতক আরও দুই অভিযুক্ত শিপন সাহা ও সুশান্ত দেবনাথকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এদিকে গুরুতর আহত আশিষ ঘোষকে প্রথমে দয়ারামপাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে হাঁপানিয়া হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যস্ত সড়কে রাতের অন্ধকারে গাড়ি আটকে এভাবে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অপরাধ দমনে রাতের পুলিশি টহল আরও জোরদার করার পাশাপাশি দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লুট হওয়া সামগ্রী উদ্ধারের পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
একজন পেশাদার চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টের উপর স্ত্রীকে সামনে রেখেই এমন হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন মহলের মানুষ। দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও উঠেছে।



















