আগরতলা, ২২ জুলাই: ত্রিপাক্ষিক শান্তিচুক্তি – ২০২৪ দ্রুত বাস্তবায়ন, প্রত্যাগত সদস্যদের পুনর্বাসন এবং তিপ্রাসা জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে বুধবার রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি জমা দিল আত্মসমর্পণকারী বৈরী সংগঠন এনএলএফটি ।
সংগঠনের সভাপতি প্রসেনজিৎ দেববর্মা বলেন, ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত ত্রিপাক্ষিক শান্তিচুক্তির প্রায় দুই বছর অতিক্রান্ত হলেও অধিকাংশ আত্মসমর্পণকারী সদস্য এখনও চুক্তির সুবিধা পাননি। তাদের দাবি, প্রায় ৯০ শতাংশ আত্মসমর্পণকারী সদস্য এখনও সরকারি পুনর্বাসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, চুক্তির আওতায় বিশেষ অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্যাকেজ বাস্তবায়নের কাজ এখনও শুরু হয়নি। পাশাপাশি, চুক্তির ২৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী গঠিত হওয়ার কথা থাকা ইআইএমসি, এসএলইসি এবং জেডাব্লিউজিসি কমিটিতে এনএলএফটি (ওআরআই) ও এটিটিএফ ( এটিটিএফ) রিটার্নিজ গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, চুক্তির বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলি গঠন করে তাদের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং ওই কমিটির তত্ত্বাবধানে উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। এছাড়া স্মারকলিপিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— এনএলএফটি (ওআরআই) রিটার্নিজ নেতৃত্বকে টিটিএএডিসি-তে রাজ্যপাল মনোনীত এমডিসি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। ত্রিপাক্ষিক শান্তিচুক্তির সব প্রতিশ্রুতি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন। ভূমিহীন তিপ্রাসা পরিবারগুলিকে কৃষি ও জীবিকার উদ্দেশ্যে জমি বরাদ্দ। যোগ্য তিপ্রাসা বেকার যুবকদের রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তর, আসাম রাইফেলস, বিএসএফ, সিআরপিএফ-সহ বিভিন্ন বাহিনীতে নিয়োগের ব্যবস্থা। ত্রিপাক্ষিক শান্তিচুক্তির আওতায় থাকা এনএলএফটি (ওআরআই), এনএলএফটি (পিডি) এবং এটিটিএফ-এর সমস্ত প্রত্যাগত সদস্যদের দ্রুত সরকারি স্বীকৃতি ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিষয়গুলি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও এখনও পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। তাই রাজ্যপালের হস্তক্ষেপে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানিয়েছে সংগঠন।
——-



















