আগরতলা, ৮ জুলাই: “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী’র গত ১২ বছরের শাসনকালে দেশের অর্থনীতির বুনিয়াদ অত্যন্ত শক্তিশালী হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দেশের অখণ্ডতা রক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রদেয় প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ত্রিপুরাতে হীরা মডেলের বাস্তবায়ন হয়েছে। কৈলাসহর হয়ে আগরতলা পর্যন্ত আরও একটি বিকল্প রেলপথ নির্মাণের জন্য সমীক্ষার কাজও সম্পন্ন হয়ে গেছে।” আজ আগরতলা প্রেসক্লাবে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো’র (পিআইবি) উদ্যোগে আয়োজিত মিডিয়া কর্মশালা “বার্তালাপ’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেছেন রাজ্যসভার সাংসদ শ্রী রাজীব ভট্টাচার্য।
কর্মশালায় সরকারের ১২ বছরের কার্যকালের বিবরণ তুলে ধরতে গিয়ে সাংসদ শ্রী ভট্টাচার্য বলেন, “এই ১২টি বছর ছিল মানুষের বিশ্বাসের বছর, ভরসার বছর, কল্যাণের বছর, উন্নয়নের বছর, সুরক্ষার বছর, ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বছর।” এই প্রসঙ্গে “মেক ইন ইন্ডিয়া”, “ভোকাল ফর লোকাল’ সহ কেন্দ্রীয় সরকারের গৃহিত বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচীর কথাও আলোচনায় তুলে ধরেন তিনি।
সাংসদ শ্রী ভট্টাচার্য বলেন, “অর্থনৈতিক বুনিয়াদকে শক্তিশালী করে তোলার স্বার্থে ২০১৪ সালে সরকারের দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রথমেই গরীবদের জন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পিএম জনধন যোজনায় আওতায় তখন জিরো ব্যালেন্সে ৫৮ কোটি’রও বেশি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল, যার মধ্যে ৩২ কোটিরও বেশি ছিলেন মহিলা। ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলিতে তখন প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকা জমা পড়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর ওই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য ছিল গরিবদের টাকা যাতে সরাসরি ডিবিটি’র মাধ্যমে তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।”
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী’র গৃহিত দ্বিতীয় বড় সিদ্ধান্তটি ছিল ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়া। এরফলে অনলাইনে লেনদেনের সুবিধা বাড়ে। বর্তমানে ইউপিআই এর মাধ্যমে প্রতিদিন ৭৫ কোটি টাকারও বেশি অর্থ লেনদেন হয়। এখন চায়ের দোকান থেকে সর্বত্র ডিজিটাল লেনদেন হচ্ছে। ভারতের ডিজিটাল লেনদেন এর ব্যবস্থা এখন ১০টির বেশি দেশ গ্রহণ করতে চাইছে।” শ্রী ভট্টাচার্য জানান, “এখন পর্যন্ত পিএম আবাস যোজনায় দেশে ৩ কোটিরও বেশি পাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে এবং ২০২৮-২৯ সালের মধ্যে আরও ৪ কোটি ৯৫ লক্ষ পাকা বাড়ি নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুদ্রা যোজনায় ৫৭ কোটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ৩৯ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। উজ্জ্বলা যোজনায় দেশের ১০ কোটি গরিব পরিবারকে বিনামূল্যে গ্যাসের সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। স্ব্চ্ছ ভারত মিশন প্রকল্পে ১১ কোটিরও বেশি বাড়িতে শৌচালয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।”
শ্রী ভট্টাচার্য বলেন, “গরিব কৃষকরা যাতে মধ্যস্বত্বঃভোগীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারেন তারজন্য ফসলের উপর নূন্যতম সহায়ক মূল্য ধার্য্য করা হয়েছে। এছাড়া, পিএম কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্প চালু করে প্রত্যেক গরিব কৃষকদের অ্যাকাউন্টে বছরে ৬ হাজার টাকা প্রদান করা হচ্ছে। আয়ুষ্মান প্রকল্পে প্রত্যেক গরিব পরিবারকে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার আগে সারা দেশে ৭টি এইমস ছিল, আর এখন দেশে ১৭টি এইমস চালু রয়েছে।”
তিনি বলেন, “দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও এই সময়ের মধ্যে শক্তিশালী করে তোলা হয়েছে। আগরতলা থেকে এখন সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিষেবা করিমগঞ্জ পর্যন্ত চালু করা হয়েছে এবং ভবিষৎতে গুয়াহাটি পর্যন্ত চালু করা হবে।” তিনি জানান, “ত্রিপুরার উন্নয়নের জন্য মোদীজি অনেক প্রকল্প চালু করেছেন। এর আগে রাজ্যে ১টি জাতীয় সড়ক ছিল, আর এখন রাজ্যের জন্য ৯টি জাতীয় সড়ক ঘোষণা করা হয়েছে। আগরতলা এমবিবি বিমানবন্দরের মত এত সুন্দর বিমানবন্দর উত্তর পূর্বের কোথাও নেই। সাব্রুম পর্যন্ত ব্রডগেজ রেল চালু হয়ে গেছে। কৈলাসহর হয়ে আরও একটি বিকল্প রেলপথ নির্মাণ করার জন্য সমীক্ষার কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেছে।” দেশের অর্থনীতির বুনিয়াদ শক্তিশালী করাই নরেন্দ্র মোদী’র সরকারের মূল মন্ত্র বলে উল্লেখ করেন রাজ্যসভার সাংসদ শ্রী রাজীব ভট্টাচার্য।
কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বীর বিক্রম মেমোরিয়াল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ড. রতন দেব বলেন, “কোন একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি নির্ভর করে সরকারের স্থায়ীত্বের উপর। আর একারণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী’র ১২ বছরের কার্যকালে দেশের জিডিপি, মাথাপিছু গড় আয়ের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে।” পিএম জনধন যোজনা, পিএম গরিব কল্যাণ যোজনা, স্টার্টআপ ইন্ডিয়া কিংবা পরিকাঠামোর উন্নয়নে গৃহিত ভারতমালা প্রজেক্টের মত একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের দৃষ্টান্ত তিনি সবিস্তারে তুলে ধরেন। লন্ডনভিত্তিক একজন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞের উদ্ধৃতি তুলে ধরে ড. দেব বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত ১২ বছরে দেশকে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছেন তাতে আগামী ২০৪৭ মধ্যে ভারত সুপার পাওয়ার হয়ে উঠবে।
কৃয়কদের কল্যাণে গৃহিত একাধিক কল্যাণমূলক প্রকল্পের সাফল্যের তথ্য তুলে ধরতে গিয়ে ত্রিপুরা সরকারের তথ্য দপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত সহকারি অধিকর্তা দেবাশীষ লোধ বলেন, “কৃষকদের স্বপ্ন এবং দুঃস্বপ্ন- উভয়েরই সাথী এখন কেন্দ্রের বর্তমান সরকার। পিএম কিষাণ সম্মান নিধি যদি হয় কৃষকদের স্বপ্ন, তবে ফসল বীমা যোজনা হল কৃষকদের দুঃস্বপ্নের সহায়। সারা দেশে ৯ কোটি ৪৪ লক্ষেরও বেশি কৃষক এখন পিএম কিষাণ সম্মান নিধির সাথে যুক্ত রয়েছেন, যাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দেওযা হচ্ছে।” কৃষকদের সাথে সরকার ও বিজ্ঞান যুক্ত হওয়ায় দেশে কৃষি এখন নতুন করে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হয়ে উঠছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মহারাজা বীর বিক্রম কলেজের অধ্যাপক শ্রী পরেশ দেবনাথ বলেন, “পিএম জনধন যোজনা, পিএম উজ্জ্বলা যোজনা, পিএম কৌশল বিকাশ যোজনা, পিএম এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশন প্রোগ্রাম, প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ স্কিম, ইত্যাদির মাধ্যমে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার দেশের মহিলা ও যুবকদের ক্ষমতায়ন করে চলেছে।” দেশের ১ কোটি ৬০ লক্ষেরও বেশি যুবক যুবতীদের ইতিমদ্যে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং তাদেরকে স্বনির্ভর করে তোলার জন্য বিভিন্ন সহায়তা করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
যে সমস্ত বেকার বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অর্থের অভাবে নিজস্ব উদ্যোগ চালু করতে পারছেন না, বা উপযুক্ত নিশ্চয়তা দিতে না পারার কারণে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ পাচ্ছেন না, তাদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের চালু করা মুদ্রা যোজনার কথা তুলে ধরেন আগরতলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তথা হেডলাইনস ত্রিপুরার কর্ণধার শ্রী প্রণব সরকার। এই মুদ্রা যোজনা প্রকল্পটিকে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত দেশের ২ কোটি ১৬ লক্ষ ক্ষুদ্র ও মাঝারী ব্যবসায়ী এই প্রকল্পে ঋণ নিয়ে উপকৃত হয়েছেন। অনলাইন পোর্টালে আবেদন করে, কিংবা সরাসরি ব্যাঙ্কের সাথে যোগাযোগ করে কোনো সিকিউরিটি ছাড়াই এই প্রকল্পে ঋণ পাওয়া যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের অধীনস্থ প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো আগরতলার উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী’র সরকারের ১২ বছরের কার্যকাল উপলক্ষে এদিনের এই বার্তালাপ কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছিল। রাজ্যের সরকারি এবং বেসরকারি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিক ও অন্যান্যরা এই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।
————–
“ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ”- এ যোগ দিতে আগরতলায় এলেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার
আগরতলা, ৮ জুলাই: ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার অ্যাম্বাসাডর মো. রিয়াজ হামিদুল্লাহ বুধবার আগরতলা রেলস্টেশনে পৌঁছেছেন। এদিন স্টেশনে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও ও আগরতলার বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা।
জানা গেছে, আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য ‘ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ’-এ অংশগ্রহণ করবেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার। এই কনক্লেভে ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন এবং সীমান্তবর্তী অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হাইকমিশনারের এই সফর দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।























