পানামা সিটি, ২৭ জুন (আইএএনএস): ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলার জন্য প্রথম দফায় ১৮ টন মানবিক ত্রাণ পাঠিয়েছে পানামা। পাশাপাশি একটি বিশেষ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলও পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো।
স্থানীয় সময় শুক্রবার এক্স-এ করা এক পোস্টে মুলিনো জানান, পানামার জনগণের সহযোগিতায় ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রথম বিমানটি ১৮ টন মানবিক সহায়তা নিয়ে ভেনেজুয়েলার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।
ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য খাদ্য, বোতলজাত পানীয় জল, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধির সামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, টর্চ, ব্যাটারি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনীয় জিনিস।
এদিকে, পানামার জাতীয় সিভিল প্রোটেকশন সিস্টেমের নেতৃত্বে একটি বিশেষ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলও প্রস্তুত করা হচ্ছে। সংস্থার প্রধান ওমর স্মিথ জানান, এই দলে প্রায় ৬০ জন প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী এবং অনুসন্ধান কাজে দক্ষ চারটি কুকুর থাকবে।
তিনি জানান, দলের কাছে ড্রোন, তাপ শনাক্তকারী বিশেষ সরঞ্জাম এবং রাসায়নিক, জৈব, তেজস্ক্রিয় ও পারমাণবিক ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত কর্মীরাও থাকবেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই উদ্ধার অভিযান প্রাথমিকভাবে সাত দিন চলবে। তবে ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে সেই সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত উদ্ধারকর্মী নিয়ে দ্বিতীয় বিমানও পাঠানো হবে।
এদিকে, বুধবারের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ভারত, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, এল সালভাদর, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, চিলি, ইকুয়েডর, স্পেন, জার্মানি, সুইৎজারল্যান্ড, কাতার এবং রাষ্ট্রসংঘ-সহ একাধিক দেশ থেকে প্রযুক্তিগত ও মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে শুরু করেছে।
সরকারি সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবারের ভূমিকম্পে অন্তত ৯২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩,৩৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পে দেশের মধ্য উপকূলীয় অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সূত্র: আইএএনএস



















