কৈলাসহর, ১৪ আগস্ট: হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চিকিৎসক রোগী দেখতে আসছেন না—এমনই অভিযোগ উঠেছে কৈলাশহরের ভগবাননগর এলাকায় অবস্থিত ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে। ছয় থেকে বারো ঘণ্টা পর্যন্ত চিকিৎসকের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগী ও তাঁদের পরিজনদের। চিকিৎসক সংকটের কারণে জেলা হাসপাতালের পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পরিবারের দাবি, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় চিকিৎসকের দেখা না পেয়ে অনেক রোগীকে অন্যত্র নিয়ে যেতে হচ্ছে। এমনই অভিযোগ উঠেছে পেচারতলের জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ের এক ১৩ বছর বয়সি নাবালিকাকে ঘিরে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট গভীর রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত প্রায় ১২টা নাগাদ নাবালিকাকে ঊনকোটি জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করেন। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় ১২ ঘণ্টা কেটে গেলেও মেডিসিন বিভাগের কোনও চিকিৎসক নাবালিকাকে দেখতে আসেননি। চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতালের বেডে নাবালিকা কষ্ট পাচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর বাবার।
অন্যদিকে, কৈলাশহর প্রেস ক্লাব সংলগ্ন এলাকার এক ৮০ বছর বয়সি বৃদ্ধা শুক্রবার ভোর প্রায় ৫টা নাগাদ নিজ বাড়িতে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করেন।
পরিবারের অভিযোগ, দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় ছয় ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কোনও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ তাঁকে দেখতে আসেননি। চিকিৎসকের অপেক্ষায় তাঁর মা হাসপাতালে চিকিৎসা ছাড়াই পড়ে রয়েছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বৃদ্ধার ছেলে।
এদিকে, হাসপাতালের চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছেন ঊনকোটি জেলা হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিন্টেন্ডেন্ট ডা. রোহন পাল। ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি না হলেও তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসকের তীব্র সংকট রয়েছে।
হাসপাতালে কর্মরত তিনজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞের মধ্যে ডা. প্রীতম পাল উচ্চশিক্ষা তথা পিজি কোর্সের জন্য রাজ্যের বাইরে রয়েছেন। ডা. রাকেশ দাস পারিবারিক কারণে ছুটিতে রয়েছেন। অন্যদিকে, ডা. পূর্ণকৃত দেববর্মা প্রায় এক মাস ধরে ছুটিতে রয়েছেন। ফলে বর্তমানে মেডিসিন বিভাগ কার্যত চিকিৎসকশূন্য হয়ে পড়েছে বলে জানান মেডিকেল সুপারিন্টেন্ডেন্ট। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি স্বাস্থ্য দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
চিকিৎসক সংকটের কারণে দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে অনেক রোগীকে আগরতলা কিংবা অন্যত্র বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সময়মতো চিকিৎসা পাওয়া নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জেলার প্রধান সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসকের এমন সংকট নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের মধ্যে। দ্রুত পর্যাপ্ত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করে হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা স্বাভাবিক করার দাবি উঠেছে। ঊনকোটি জেলা হাসপাতালের এই চিকিৎসক সংকট কবে কাটবে এবং সাধারণ মানুষ কবে স্বাভাবিক চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন, এখন সেই প্রশ্নই ঘুরছে জেলার মানুষের মধ্যে।



















