আগরতলা, ২৯ সেপ্টেম্বর: কৃষি ও উদ্যানপালন ক্ষেত্রের উন্নয়ন এবং কৃষকদের কল্যাণে কেন্দ্রের কাছে একাধিক দাবি জানালেন ত্রিপুরার কৃষিমন্ত্রী রতন লাল নাথ। প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা-র নির্দেশিকায় ‘স্থানীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ অন্তর্ভুক্ত করা, রাজ্যে আরও ৪৫ হাজার মাটি স্বাস্থ্য কার্ড প্রদান এবং সমন্বিত উদ্যানপালন উন্নয়ন মিশন-এর বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানান তিনি।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় কৃষি সম্মেলন–রবি অভিযান ২০২৬-এর দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই দাবিগুলি তুলে ধরেন কৃষিমন্ত্রী। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষি, কৃষক কল্যাণ ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, কেন্দ্রীয় কৃষি প্রতিমন্ত্রী রামনাথ ঠাকুর ও ভাগীরথ চৌধুরী, বিভিন্ন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রীরা, কৃষি সচিব অতীশ চন্দ্র-সহ কেন্দ্র ও বিভিন্ন রাজ্যের আধিকারিকরা।
কৃষিমন্ত্রী জানান, চলতি বছরে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করেছে এবং রাজ্যের কৃষকদের সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। তিনি জানান, গত রবি মরশুমে ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধান, ৯,৫০০ হেক্টর জমিতে রবি ডালশস্য এবং ৯,৭০০ হেক্টর জমিতে রবি তৈলবীজ চাষ করা হয়েছিল। এই ফসলগুলি গ্রীষ্মকালে সংগ্রহ করা হবে বলে জানান তিনি।
রতন লাল নাথ জানান, চলতি খরিফ মরশুমে মুখ্যমন্ত্রীর সমন্বিত শস্য ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির আওতায় মোট ৩৭,৫০০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ২৭,৫০০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধান, ২ হাজার হেক্টরে সুগন্ধি ধান, ১৫ হাজার হেক্টরে ডালশস্য, ৮ হাজার হেক্টরে তৈলবীজ এবং ১ হাজার হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, রাজ্যে কৃষক নিবন্ধন, ডিজিটাল শস্য সমীক্ষা এবং সার বিক্রির জাতীয় কাঠামো বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
সম্মেলনে কৃষকদের স্বার্থে একাধিক বিষয় তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরায় বর্তমানে ১৬,৪০০ হেক্টর জমিতে প্রাকৃতিক চাষ হচ্ছে এবং প্রায় ৩৮ হাজার কৃষক এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। গত দুই বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক চাষের পাশাপাশি জৈব-উৎপাদন উপকরণও বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিপণন, প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য বায়ো ইনপুট রিসোর্স সেন্টারগুলিকে সহায়তা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক বীজ উৎপাদকদের নিয়ে একটি কনসোর্টিয়াম গঠনেরও দাবি জানান তিনি।
মন্ত্রী জানান, ত্রিপুরায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জৈব কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। রাজ্যে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ জৈব কৃষিপণ্য জার্মানি, দুবাই ও বাংলাদেশে রফতানি করা হচ্ছে। ত্রিপুরার প্রায় ৯৬ শতাংশ কৃষক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক উল্লেখ করে তিনি এই প্রকল্প উত্তর-পূর্ব ভারতের সমস্ত রাজ্যে সম্প্রসারণের দাবি জানান।
কৃষি ক্ষেত্রে যান্ত্রিকীকরণ ও সেচ ব্যবস্থায় আরও গুরুত্ব দিতে সাব-মিশন অন এগ্রিকালচারাল মেকানাইজেশন এবং ‘পার ড্রপ মোর ক্রপ’ প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিও জানান তিনি।
রতন লাল নাথ বলেন, ভারী বৃষ্টির সময় রাজ্যের ধান চাষের বিস্তীর্ণ এলাকা জলে ডুবে যায়। এর ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হলেও অনেক ক্ষেত্রে কৃষকরা ফসল বিমার সুবিধা পান না। বড় ধরনের ধান নষ্টের ঘটনায় কৃষকদের সুরক্ষা দিতে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার নির্দেশিকায় ‘স্থানীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি। বন্যা-সহ স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগকে এর আওতায় আনার দাবি জানান কৃষিমন্ত্রী।
এছাড়াও রাজ্যে আরও ৪৫ হাজার মাটি স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
উদ্যানপালন ক্ষেত্রের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যানপালন উন্নয়ন মিশন-এর বার্ষিক কর্মপরিকল্পনায় এরিয়া এক্সপ্যানশন কর্মসূচির ন্যূনতম বরাদ্দ ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করার দাবি জানান কৃষিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ত্রিপুরায় অ্যাভোকাডো ও রামবুটানের মতো বিদেশি ফল চাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উন্নতমানের চারা ও রোপণ সামগ্রীর পর্যাপ্ত জোগান নেই। মাটির স্তরে দ্রুত এই কর্মসূচি সম্প্রসারণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি স্বীকৃত গবেষণা কেন্দ্র ও নার্সারিগুলির মাধ্যমে উন্নতমানের রোপণ সামগ্রী সরবরাহের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
রতন লাল নাথ জানান, রাজ্যে কেন্দ্রের অনুমোদিত উৎকর্ষ কেন্দ্রগুলির প্রকল্পে রাজ্য সরকার এমআইডিএইচ প্রকল্পের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় করতে পারে। তাই এমআইডিএইচ-এর অনুদান ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির দাবি জানান তিনি। একইভাবে পরবর্তী পর্যায়ের ফসল ব্যবস্থাপনা পর্বে বেসরকারি উদ্যোগকে আকৃষ্ট করতে সংরক্ষিত তহবিল থেকে সহায়তার হার ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করারও দাবি জানান কৃষিমন্ত্রী।






















