ওয়াশিংটন, ১৪ আগস্ট (আইএএনএস): মার্কিন সীমান্তে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে বড় সাফল্যের দাবি করল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। বৃহস্পতিবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টানা ১৫ মাস ধরে মার্কিন সীমান্তে আটক হওয়া অনথিভুক্ত অভিবাসীদের ‘রিলিজ’ করার ঘটনা শূন্য রয়েছে। কঠোর সীমান্ত নজরদারি এবং ঐতিহাসিকভাবে কম সীমান্ত পারাপারকেই এর কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন জানিয়েছে, জুলাই মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে বর্ডার প্যাট্রোল ৯,২৯৫ জনকে আটক করেছে। জুনের তুলনায় এই সংখ্যা ৬ শতাংশ কম। গোটা দেশে জুলাইয়ে বর্ডার প্যাট্রোলের মোট আটক ১১,২৯৮ জন, যা আগের মাসের তুলনায় ১ শতাংশ কম।
ডিএইচএস সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সীমান্ত নিরাপত্তা নীতি আমেরিকার সীমান্তে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনছে এবং মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি অভিবাসন আইন কার্যকর করার উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে আটক হওয়ার সংখ্যা বাইডেন প্রশাসনের সময়কার মাসিক গড়ের তুলনায় ৯৪ শতাংশ কম। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের সর্বোচ্চ সংখ্যার তুলনায় এই হার ৯৬ শতাংশ কম। এমনকি ২০২৪ সালের জুলাইয়ের মাত্র ছয় দিনের মোট আটক সংখ্যার তুলনায়ও এবারের জুলাইয়ের সংখ্যা কম বলে দাবি করা হয়েছে।
সিবিপি কমিশনার রডনি এস. স্কট বলেন, স্পষ্ট নীতি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সীমান্তে কর্মরত কর্মীদের নিষ্ঠার ফলে এই সাফল্য এসেছে। তাঁর দাবি, অবৈধ সীমান্ত পারাপার, বিপজ্জনক ব্যক্তিদের প্রবেশ এবং মাদক পাচার রুখতে সিবিপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একইসঙ্গে বৈধ বাণিজ্য ও যাতায়াত সচল রাখার কথাও জানান তিনি।
তবে জুলাইয়ে মাদক উদ্ধারের পরিমাণ বেড়েছে বলে জানিয়েছে সিবিপি। দেশজুড়ে কোকেন, মেথামফেটামিন, হেরোইন, ফেন্টানিল ও মারিজুয়ানা মিলিয়ে জুলাইয়ে যে পরিমাণ মাদক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, তা ২০২৪ সালের জুলাইয়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবর্ষে জুলাই পর্যন্ত মাদক উদ্ধারের পরিমাণ ২০২৪ অর্থবর্ষের একই সময়ের তুলনায় ৫৪ শতাংশ বেশি।
জুলাইয়ে ফেন্টানিল উদ্ধার হয়েছে ১,০৫৪ পাউন্ড, যা জুনের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি। হেরোইন উদ্ধার বেড়েছে ২০ শতাংশ, পরিমাণ ৭৯ পাউন্ড।
এদিকে জুলাইয়ে ৩৪২ বিলিয়ন ডলারের আমদানি প্রক্রিয়াকরণ করেছে সিবিপি এবং ২৩ বিলিয়ন ডলারের শুল্ক আদায়ের বিষয় শনাক্ত করেছে। সম্ভাব্য জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগে ৮৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের ৩০০টি চালানও আটকে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও ২.৯ মিলিয়ন জাল পণ্য বাজেয়াপ্ত করেছে সিবিপি, যার আনুমানিক মূল্য ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি। কৃষি বিভাগের বিশেষজ্ঞরা নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত উদ্ভিদ ও প্রাণীজাত পণ্য সংক্রান্ত ৬,৫৫৪টি জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। পাশাপাশি যাত্রীদের ১,১৪,১৪৭টি ইতিবাচক পরিদর্শন এবং ঘোষণাবিহীন নিষিদ্ধ কৃষিজাত পণ্যের ক্ষেত্রে ৭০৪টি দেওয়ানি জরিমানা বা লঙ্ঘনের নোটিশ জারি করা হয়েছে।



















