নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৪ আগস্ট: ইতিহাস ভুলে গেলে বর্তমান ও ভবিষ্যতের অগ্রগতি বাধাপ্রাপ্ত হয়। দেশের জাতীয় পতাকার মধ্যে আছে এগিয়ে যাওয়ার দিকনির্দেশনা। বর্তমান ছাত্র ও যুবসমাজকে দেশ ভাগের বিভীষিকাময় ইতিহাস জানতে এবং তা নিয়ে চর্চা করতে হবে। আজ মহারাজা বীরবিক্রম মহাবিদ্যালয়ের রবীন্দ্র হলে দেশ বিভাজন বিভীষিকা স্মরণ দিবস উদযাপন ও হর ঘর তিরঙ্গা উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। তিনি বলেন, ধর্মীয় ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে ভারতবর্ষকে বিভক্ত করা হয়েছিল। দেশ ভাগের ফলেই সৃষ্টি হয়েছিল এক ধর্মীয় বিভেদের আবহ। সেই পরিবেশে প্রত্যেক মানুষের সামাজিকভাবে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। দেশ ভাগের ফলে যে ভয়াবহ সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল তার ভয়াবহতা সম্পর্কে এই দিবসটির অসীম তাৎপর্য রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় পতাকার সাথে জড়িয়ে রয়েছে দেশবাসীর দেশপ্রেম ও দেশভক্তির আবেগ। স্বাধীনোত্তর সময়ে দেশ নানা সময়ে লুণ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু দেশবাসীর মধ্যে দেশের প্রতি প্রেম, ভালোবাসা ও সম্মান লুণ্ঠিত হয়নি। দেশভাগের ফলে লক্ষ লক্ষ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবার আগে দেশ, প্রতিটি মানুষের মনে সেই ভাবনা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, দেশভক্তি ও দেশপ্রেমকে আরও বেশি করে জাগ্রত করে তুলতে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হর ঘর তিরঙ্গা কর্মসূচি সূচনা করেন ২০২২ সালে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ছাত্র, যুব সমাজ সহ প্রতিটি দেশবাসীর মধ্যে দেশপ্রেম ও দেশভক্তির জোয়ার এসেছে। বর্তমানেও তা অব্যাহত রয়েছে। এই ভাবনাকে বর্তমান ও আগামী প্রজন্ম যতবেশি ধরে রাখতে পারবে ততবেশি দেশ উন্নত ও শক্তিশালী হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় পতাকা হলো আমাদের গর্ব। জাতীয় পতাকায় জড়িয়ে রয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মবলিদানের স্মৃতি। বর্তমানে দেশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। বর্তমানে রাজ্যও উন্নয়নের পথে ক্রমশ এগিয়ে চলছে। বিকশিত ভারত গড়তে রাজ্যগুলিকেও হতে হবে বিকশিত রাজ্য।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির ভাষণে এসএমসিসি’র চেয়ারম্যান নবেন্দু ভট্টাচার্য দেশ ভাগের প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহারাজা বীরবিক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর বিভাস দেব, উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা অনিমেষ দেববর্মা, টিচার্স কাউন্সিলের সচিব ড. নিলিমা বিশ্বাস। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহারাজা বীরবিক্রম মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. অর্জুন গোপ।
‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা মহারাজা বীরবিক্রম মহাবিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ থেকে এক তিরঙ্গা র্যালির সূচনা করেন।



















