নয়াদিল্লি, ২৬ জুন (আইএএনএস): অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান তছরুপের অভিযোগে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শাসক ও বিরোধী দলের নেতারা তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন।
শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণ মোহনের অভিযোগ এবং বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-এর সুপারিশের ভিত্তিতে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিহারের মন্ত্রী রাম কৃপাল যাদব বলেন, “যদি সত্যিই চুরি হয়ে থাকে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। প্রশাসন ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নিচ্ছে। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে আর কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের পদক্ষেপ যথাযথ।”
জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর মুখপাত্র নীরজ কুমারও কঠোর আইনি পদক্ষেপের পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, “ভক্তরা ভগবান রামের নামে অর্থ ও সেবা উৎসর্গ করেছেন। কেউ যদি সেই অর্থ আত্মসাৎ করে, তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধ করলে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।”
অন্যদিকে, কংগ্রেস সাংসদ জেবি ম্যাথার তদন্তের গতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “রাম মন্দিরেও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। কিন্তু ডাবল ইঞ্জিন সরকার অভিযুক্তদের রক্ষা করার চেষ্টা করছে বলেই মনে হচ্ছে। তদন্তের গতি অত্যন্ত ধীর এবং এসআইটির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এতে শুধু একটি ধর্ম নয়, সব ধর্মকে সম্মান করা মানুষের অনুভূতিতে আঘাত লাগছে।”
রাম মন্দিরের অনুদান তছরুপ মামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে শাসকদল সরকারের পদক্ষেপকে সমর্থন করছে, অন্যদিকে বিরোধীরা তদন্তের স্বচ্ছতা ও গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ বৃহস্পতিবার অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান আত্মসাতের অভিযোগে প্রথম এফআইআর নথিভুক্ত করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মামলার আটজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।



















