আগরতলা, ১০ আগস্ট: দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যের রাস্তাঘাটকে চলাচলের উপযোগী ও গর্তমুক্ত করতে ব্যাপক ও সময়বদ্ধ মেরামতি অভিযান শুরু করেছে ত্রিপুরা পূর্ত দপ্তর (পিডব্লিউডি)। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাস্তা মেরামতির কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিডব্লিউডি সচিব কিরণ গিত্তে।
সোমবার সিনিয়র পূর্ত আধিকারিকদের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, গত ৮ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহার পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুর্গাপুজোর আগে রাজ্যের সমস্ত জেলার রাস্তাঘাট মেরামতের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই দ্রুততার সঙ্গে কাজ শুরু হয়েছে।
পিডব্লিউডি সচিব জানান, রাজ্যের রাস্তা মেরামতির কাজ চারটি সংস্থার মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এগুলি হল পিডব্লিউডি রোডস অ্যান্ড ব্রিজেস, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা (পিএমজিএসওয়াই), পিডব্লিউডি ন্যাশনাল হাইওয়েজ এবং এনএইচআইডিসিএল। গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি সড়কও এই মেরামতি কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে চম্পকনগর-নালগড়িয়া ব্রিজ অংশ, খোয়াই-আগরতলা সড়ক, খোয়াই-কুমারঘাট-কাইলাশহর রুট, চুরাইবাড়ি-আগরতলা সড়ক এবং আমবাসা-গান্ধাছড়া সড়ক অন্যতম।
রাস্তার বেহাল দশার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কিরণ গিত্তে বলেন, মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া অনিয়মিত ও দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টির কারণে রাজ্যের বিভিন্ন ব্ল্যাকটপ রাস্তা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাধারণত মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে বর্ষার আগে রাস্তা মেরামতের কাজ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি চলতে থাকায় সেই স্বাভাবিক সময়সীমায় কাজ ব্যাহত হয়েছে। তবে বর্ষার মধ্যেও জরুরি ভিত্তিতে রাস্তার গর্ত মেরামতের জন্য কোল্ড মিক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, দুর্গাপুজোর আগে এই জরুরি রাস্তা মেরামতি অভিযানে আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে। অন্যদিকে, জাতীয় সড়ক সংক্রান্ত ব্যয়-সহ পূর্ত দপ্তরের বার্ষিক রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ বাজেট সাধারণত ৫৫০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা।
পিডব্লিউডি সচিব আরও জানান, রাজ্যের পাঁচ হাজারেরও বেশি রাস্তার পুরো নেটওয়ার্ক প্রতি বছর মেরামতের প্রয়োজন হয় না। বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে সাধারণত চার থেকে পাঁচ বছরের একটি চক্র অনুসরণ করা হয়। চলতি বছরে প্রায় ১,০০৬টি রাস্তা মেরামতির জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া গত দুই থেকে তিন বছরে রাজ্যের আরও কয়েক হাজার রাস্তা মেরামত করা হয়েছে।
কিরণ গিত্তে জানান, বর্ষা শেষ হওয়ার পর আবহাওয়া শুকনো হলে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পূর্ণ পুনরায় কার্পেটিং বা সারফেসিংয়ের কাজ করা হবে।
এদিকে, রাস্তা ও সেতুর ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে পূর্ত দপ্তরকে অবহিত করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। নিকটবর্তী পিডব্লিউডির জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার, এসডিও অথবা এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের কাছে অভিযোগ জানানোর জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে পিডব্লিউডি সচিব বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর দপ্তরের দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। রাস্তা সংক্রান্ত সমস্যাগুলিকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সমাধান করার জন্য সরকার আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছে বলেও তিনি জানান।


















