নয়াদিল্লি, ১০ আগস্ট (আইএএনএস): জম্মু-কাশ্মীর ও পাঞ্জাবে আতঙ্ক এবং অস্থিরতা তৈরির লক্ষ্যে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই তাদের মদতপুষ্ট গোষ্ঠীগুলিকে বড় ধরনের ‘সাইকোলজিক্যাল অপারেশন’ বা মনস্তাত্ত্বিক প্রচার অভিযান চালানোর নির্দেশ দিচ্ছে বলে সতর্ক করেছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, লস্কর-ই-তৈয়বা এবং খালিস্তান জিন্দাবাদ ফোর্স (কেজেডএফ)-এর মতো সংগঠনগুলি তাদের সহযোগী সংগঠন ও প্রতিনিধিদের ব্যবহার করে দুই রাজ্যে ব্যাপক প্রচার চালানোর পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক তৈরি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার চেষ্টা হতে পারে।
এক গোয়েন্দা ব্যুরো আধিকারিক জানান, দুই সংগঠনই জম্মু-কাশ্মীর ও পাঞ্জাবে একই ধরনের প্রচার চালাতে পারে। তাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ফোন ও অন্যান্য মাধ্যমে যুবকদের উদ্দেশে বার্তা পাঠিয়ে পরিযায়ী শ্রমিক, সরকারি কর্মী এবং পুলিশকর্মীদের নিশানা করার আহ্বান জানানো হচ্ছে বলে দাবি।
গোয়েন্দা সূত্রের মতে, জম্মু-কাশ্মীরে এই ধরনের কৌশল লস্কর-ই-তৈয়বার কাছে নতুন নয়। কয়েক বছর আগে তাদের সহযোগী সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর মাধ্যমে পরিযায়ী শ্রমিক এবং পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। এবারও পরিযায়ী শ্রমিক এবং পুলিশকর্মীদের হত্যার আহ্বান আরও জোরালো হয়েছে বলে দাবি ওই আধিকারিকের।
জম্মু-কাশ্মীরে পরপর দুটি ঘটনায় এক হেড কনস্টেবলকে নিশানা করা এবং দুই পরিযায়ী শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। লস্কর-ই-তৈয়বা তাদের আর এক সহযোগী সংগঠন ‘ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল’ (ইউএলসি)-এর নাম ব্যবহার করে এই ধরনের বার্তা ছড়াচ্ছে বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি।
পাঞ্জাবে কেজেডএফ এবং বাব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনাল বিদেশভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন ‘শিখস ফর জাস্টিস’ (এসএফজে)-সহ অন্যান্য সংগঠনকে ব্যবহার করে একই ধরনের বার্তা ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ।
এক আধিকারিকের মতে, এই গোষ্ঠীগুলির বৃহত্তর উদ্দেশ্য হল পুলিশ বাহিনীর মধ্যে বিভাজন তৈরি করা এবং পুলিশকর্মীদের সরকারের নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে তাদের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য প্ররোচিত করা। এর ফলে পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে ফাটল তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা হতে পারে।
অতীতেও এই ধরনের আহ্বান জানানো হলেও তা সফল হয়নি। তবে এবার ফের একই কৌশল নেওয়া হচ্ছে, যাতে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বিভাগের কার্যক্রম ব্যাহত করা যায় বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি।
পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড চালিয়ে তাঁদের সহকর্মীদের কাছে ভয়ের বার্তা পৌঁছে দেওয়াই উদ্দেশ্য হতে পারে। অর্থাৎ পুলিশকর্মীদের সামনে সংগঠন ছেড়ে দেওয়া অথবা প্রাণহানির আশঙ্কার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা।
আর এক আধিকারিক বলেন, এই পরিকল্পনা পুরোপুরি সফল না হলেও রাজ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে হুমকি ও ভয়ের মধ্যে থাকতে চান না। সেই আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করাই সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে এই দুই রাজ্যে ছোট আগ্নেয়াস্ত্র পাচারেরও চেষ্টা বেড়েছে। অতীতে আইএসআই-সমর্থিত পাকিস্তানভিত্তিক গোষ্ঠীগুলি যেমন বড় অস্ত্র, বিশেষ করে একে-৪৭, পাচারের চেষ্টা করত, এবার সেই প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম। বর্তমানে পিস্তল ও রিভলভারের মতো ছোট অস্ত্র পাচারের দিকে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।
গোয়েন্দাদের মতে, এই অস্ত্রগুলি সংশ্লিষ্ট রাজ্যে পৌঁছনোর পর গ্যাংস্টার বা সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে। স্থানীয় অপরাধী বা ছোট সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দিয়ে হামলা চালানো সম্ভব হলে সেটিকে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা কঠিন হতে পারে এবং ‘স্থানীয় সমস্যা’ হিসেবে দেখানোর সুযোগ তৈরি হবে।
সূত্রের দাবি, বর্তমানে দুই রাজ্যে বড় ধরনের হামলা চালানো তুলনামূলক কঠিন হওয়ায় আইএসআই তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলিকে ছোট আকারের হামলা, আতঙ্ক ছড়ানো এবং অস্থিরতা তৈরির কাজে ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীর ও পাঞ্জাবকে ক্রমাগত উত্তপ্ত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই কৌশলের অংশ হিসেবে সাইকোলজিক্যাল অপারেশন, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে গোয়েন্দা আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
গোয়েন্দা সূত্রের মতে, এর পাশাপাশি নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে অন্যদিকে ব্যস্ত রাখাও এই কৌশলের অন্যতম উদ্দেশ্য। জম্মু-কাশ্মীরে সেই সুযোগে অনুপ্রবেশের চেষ্টা এবং পাঞ্জাবে বড় পরিমাণে অস্ত্র ঢোকানোর পরিকল্পনাও থাকতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
—আইএএনএস



















