মেলাঘর, ১০ আগস্ট: একসময় ছিল পিচের রাস্তা। এখন সেখানে পিচের চিহ্নও খুঁজে পাওয়া কঠিন। চারদিকে বড় বড় গর্ত, ভাঙাচোরা অংশ আর ক্ষতবিক্ষত সড়ক। দীর্ঘ আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে এমনই বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে মেলাঘর কলমখেত দিলু মিঞা চৌমুহনী থেকে উরমাই নুরুল হক চৌমুহনী পর্যন্ত বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করলেও সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, এই সড়কটি এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম। প্রতিদিন অসংখ্য বাইক, অটো, চার চাকার গাড়ি সহ বিভিন্ন যানবাহন এই পথ দিয়ে চলাচল করে। পাশাপাশি সড়কের আশপাশে রয়েছে সরকারি হাসপাতাল, সরকারি বিদ্যালয় এবং একাধিক সরকারি দপ্তর। ফলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রোগী, পড়ুয়া, সরকারি কর্মী এবং ব্যবসায়ীদেরও নিয়মিত এই রাস্তা ব্যবহার করতে হয়।
রাস্তার বর্তমান পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে এক নজরে দেখলে এটি পিচের রাস্তা নাকি কোনও নালা, তা বোঝার উপায় নেই। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পিচের আস্তরণ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য বড় গর্ত। সামান্য অসাবধান হলেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকছে। বিশেষ করে বাইক ও স্কুটি চালকরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন মুমূর্ষু রোগী ও গর্ভবতী মহিলারা। জরুরি পরিস্থিতিতে এই ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে গিয়ে আরও বিপদের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হলেও স্থায়ী সংস্কারের কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি।
বর্ষাকালে গর্তগুলিতে জল ও কাদা জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, বৃষ্টির সময় বাদ দিলে শুকনো মৌসুমে যানবাহন চলাচলের ফলে উড়তে থাকা ধুলোতেও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে রাস্তার এই দুরবস্থা চললেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, আর কোনও প্রতিশ্রুতি নয়, অবিলম্বে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের স্থায়ী সংস্কার কাজ শুরু করতে হবে। প্রশাসন এবার কবে এই সমস্যার দিকে নজর দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।



















