কলকাতা, ১০ আগস্ট (আইএএনএস): উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরে পুলিশ হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি স্বীকার করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর তিনি জানান, ঘটনার তদন্তকারী আধিকারিককে (আইও) সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং হালিশহর থানার আইসি-কে পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় প্রোটোকল মেনে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত করা হবে। উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিলপা গৌরিসারিয়াকে এই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট নিয়মিত মুখ্যমন্ত্রী এবং মৃতের পরিবারকে জানানো হবে বলেও তিনি জানান।
পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে মৃতের পরিবারের একজনকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতরের ‘অ্যাটেনডেন্ট’ পদে চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, পরিবার থেকে আবেদন না করা হলেও মৃতের দুই সন্তান থাকায় ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
চাকরির বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মৃতের স্ত্রীকে এক বছর প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এরপর তাঁকে গ্রুপ-ডি পদে চাকরি দেওয়া হবে।
মৃতের পরিবার তৃণমূল সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও সরকারের উপর আস্থা রাখার জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘সরকারের পক্ষ থেকে আমি পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি। তাঁরা কাউকে এই মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ দেননি। মৃতের দাদু বলেছেন, ‘আমরা বিচার চাই’। তাঁরা সরকার এবং প্রশাসনের উপর আস্থা রেখেছেন। এটা আমাদের কাছে বড় দায়।’’
মুখ্যমন্ত্রী জানান, মৃতের স্ত্রী তাঁকে চিঠি লিখে অভিযোগ করেছিলেন যে পুলিশ তাঁর স্বামীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে জানান তিনি। পুলিশের ভূমিকা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘‘পুলিশ লকআপেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে, এটা দিনের আলোর মতো সত্যি। কতটা নির্যাতনের ফলে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনই বলতে পারি না। রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত কিছু বলা সম্ভব নয়। হালিশহর থানার আইসি-কে সরিয়ে পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্তকারী আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে।’’
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘সাধারণত এই ধরনের ঘটনায় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বা এসডিও তদন্ত করেন। কিন্তু ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে এবার জেলাশাসককে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিব বিকেলে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করবেন।’’
উল্লেখ্য, হালিশহর থানার পুলিশ তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে কাঞ্চরাপাড়া পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামী বীরজু কেওটকে গ্রেফতার করেছিল। শুক্রবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। কিন্তু শনিবার জানা যায়, পুলিশ হেফাজতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
মৃতের স্ত্রী জেনির অভিযোগ, থানার লকআপের ভিতরে পুলিশ মারধর করার পরই তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়।
রবিবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাঞ্চরাপাড়ায় জেনির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন লোকসভা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভা সাংসদ দোলা সেন। তবে পথে তাঁকে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়।
অভিযোগ, তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে জুতো ও কাদা ছোড়া হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীরাই এই হামলার জন্য দায়ী। তাঁর গাড়িতে ইট-পাথরও ছোড়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। মমতা বলেন, গাড়ির জানলা খোলা থাকলে মাথায় গুরুতর আঘাত লাগতে পারত, এমনকি প্রাণহানিও ঘটতে পারত।
—আইএএনএস



















