হায়দরাবাদ, ২৬ জুন (আইএএনএস): ম্যাট্রিমোনি ও ভুয়ো বিনিয়োগের নামে ১ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকার সাইবার প্রতারণার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে হায়দরাবাদ সিটি পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা একাধিক ‘মিউল’ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রতারণার অর্থ তুলে হাওলা চক্রের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরভিত্তিক সাইবার প্রতারকদের কাছে পাঠাত।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সিদ্ধিপেটের বাসিন্দা চোক্কালা সম্পথ এবং সেকেন্দ্রাবাদের বাসিন্দা হেচু নরেশ, এন্ডলা সুরেশ ও ভাদকালা মহেশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন যে, ম্যাট্রিমোনি ও বিনিয়োগের নামে তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। অভিযুক্তরা ‘সঙ্গম ম্যাট্রিমোনি’ প্ল্যাটফর্মে এক মহিলার পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়। পরে মোটা মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে একটি ভুয়ো বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মে অর্থ লগ্নি করতে প্ররোচিত করে।
হায়দরাবাদ সাইবার ক্রাইমের উপ-পুলিশ কমিশনার ভি. অরবিন্দ বাবু জানান, প্রথমে ভুয়ো লাভের হিসাব দেখিয়ে প্রতারকরা ওই ব্যক্তির কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ৪৬ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা জমা করায়। পরে টাকা তুলতে গেলে অতিরিক্ত চার্জ দাবি করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ তোলা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখনই তিনি প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশের দ্বারস্থ হন।
তদন্তে জানা যায়, প্রতারণার অর্থ মহারাষ্ট্র ও তেলেঙ্গানার বিভিন্ন ব্যাঙ্কের মিউল অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্কের কয়েকটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা লেনদেন হয়।
পুলিশের দাবি, মূল চক্রের পলাতক হ্যান্ডলারের নির্দেশে সম্পথ মিউল অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতেন এবং অর্থ স্থানান্তরের কাজ দেখাশোনা করতেন। এর বিনিময়ে তিনি ৩০ শতাংশ কমিশন পেতেন।
নরেশ মিউল অ্যাকাউন্ট খোলা ও সেগুলি ব্যবহার করে প্রতারণার অর্থ তোলার কাজে সাহায্য করতেন এবং ১৫ শতাংশ কমিশন পেতেন। সুরেশ ও মহেশও একই ধরনের কাজে যুক্ত ছিলেন এবং প্রত্যেকে ১০ শতাংশ করে কমিশন নিতেন।
পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানিয়েছে, ম্যাট্রিমোনি, টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচিত অচেনা ব্যক্তির বিনিয়োগ, শেয়ার বাজার, ট্রেডিং বা উচ্চ মুনাফার প্রলোভনে কোনওভাবেই অর্থ বিনিয়োগ করা উচিত নয়।























