আমদাবাদ, ২৫ জুন (আইএএনএস): দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা এবং সমস্যার অভিনব সমাধানদাতাদের খুঁজে বের করে তাদের সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ‘বন্দে ভারতম’ নামে একটি জাতীয় উদ্যোগের সূচনা করলেন গৌতম আদানি।
বৃহস্পতিবার তাঁর ৬৪তম জন্মদিন উপলক্ষে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আদানি। উদ্যোগটি দেশের ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, ৮০০-রও বেশি জেলা এবং একাধিক ভারতীয় ভাষার মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
গৌতম আদানি বলেন, “আমি যখন আমার যাত্রা শুরু করেছিলাম, তখন আমার কাছে কিছুই ছিল না। আজ আমি যা হয়েছি এবং যা অর্জন করেছি, তার সবই ভারতের মাটির অবদান। আমাদের দেশে প্রতিভার কোনও অভাব নেই, কিন্তু সুযোগ সবসময় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছায়নি।”
তিনি আরও বলেন, “ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে। কিন্তু এখনও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠাতা মাত্র কয়েকটি শহর থেকেই উঠে আসছেন। ‘বন্দে ভারতম’-এর লক্ষ্য হল সেইসব উদ্ভাবক, সমস্যা সমাধানকারী এবং উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করা, যাঁদের ধারণা আরও বড় স্বীকৃতি, সহায়তা ও মঞ্চ পাওয়ার যোগ্য।”
এই উদ্যোগে অংশগ্রহণের জন্য বয়স, পেশা, শিক্ষাগত যোগ্যতা বা প্রকল্পের পর্যায় কোনও বাধা নয়। শুধুমাত্র একটি ধারণা, উদ্ভাবন, সমাধান বা ব্যবসায়িক স্বপ্ন থাকলেই আবেদন করা যাবে। নিবন্ধিত স্টার্টআপ হওয়াও বাধ্যতামূলক নয়।
প্রযুক্তি, উৎপাদন, পরিবেশগত স্থায়িত্ব, কৃষি, ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প এবং সমাজভিত্তিক উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি মহিলা উদ্যোক্তা, আদিবাসী উদ্যোক্তা, গ্রামীণ উদ্ভাবক, দিব্যাঙ্গ উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধান নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে।
সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, আবেদনগুলি উদ্ভাবনী ক্ষমতা, উদ্যোক্তা সম্ভাবনা, সামাজিক প্রভাব এবং বিস্তৃত করার সক্ষমতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। বিচারক মণ্ডলী, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য মূল্যায়ন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পরে ঘোষণা করা হবে।
রাজ্য ও আঞ্চলিক স্তরের মূল্যায়নের পর নির্বাচিত ৭৫ জন চূড়ান্ত প্রতিযোগীকে আমদাবাদে আমন্ত্রণ জানানো হবে। সেখানে তাঁরা মেন্টরশিপ, শিল্প বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাবেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নির্বাচিত প্রতিযোগীরা মেন্টর, বিনিয়োগকারী, শিল্পনেতা, ইনকিউবেশন সাপোর্ট এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের সুবিধা পাবেন, যা তাঁদের ধারণাকে সফল উদ্যোগে পরিণত করতে সাহায্য করবে। এছাড়াও পুরস্কারমূল্য এবং বিভিন্ন বিভাগভিত্তিক সম্মাননার ব্যবস্থাও থাকবে, যার বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
আগামী স্বাধীনতা দিবসের সময় গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে, যেখানে তাঁরা মেন্টর, বিনিয়োগকারী, শিল্পনেতা এবং অন্যান্য উদ্ভাবকদের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুযোগ পাবেন।
গৌতম আদানি বলেন, “আমি যদি পারি, তাহলে যে কোনও ভারতীয়ও পারে। শুধু প্রয়োজন একটি সুযোগ এবং নিজেকে তুলে ধরার একটি মঞ্চ।”
উল্লেখ্য, বর্তমানে ভারত বিশ্বের অন্যতম প্রধান স্টার্টআপ কেন্দ্র হলেও ৮০ শতাংশের বেশি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা এখনও মাত্র পাঁচটি শহর থেকে উঠে আসেন। ফলে দেশের বহু প্রতিভাবান উদ্ভাবক এখনও যথাযথ পরিচিতি, মেন্টরশিপ এবং যোগাযোগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত।
আদানি গ্রুপ-এর মতে, ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য অর্জনে উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে বৃহত্তর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


















