নয়াদিল্লি, ২৫ জুন (আইএএনএস): ‘ডিজিটাল গ্রেফতার’ প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালিয়ে দেশের ১৬টি রাজ্যে ৮০টিরও বেশি স্থানে একযোগে তল্লাশি চালাল কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই)। অভিযানে চেন্নাই ও কলকাতা থেকে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সিবিআইয়ের ‘অপারেশন চক্র-৬’-এর আওতায় গঠিত ৬০টি বিশেষ দল এই অভিযান পরিচালনা করে। পঞ্জাব, গুজরাট, দিল্লি, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, তামিলনাড়ু, তেলঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, অসম, পশ্চিমবঙ্গ, মণিপুর, কর্ণাটক ও ওডিশায় একযোগে তল্লাশি চালানো হয়।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই সংগঠিত চক্রটি ‘ডিজিটাল গ্রেফতার’ প্রতারণার ২০০-রও বেশি মামলার সঙ্গে জড়িত।
গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভুয়ো বা ‘শেল’ কোম্পানি তৈরি এবং ‘মিউল’ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা ও পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি টাকার অপরাধলব্ধ অর্থ পাচার করা হয়েছে।
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি একটি প্রতারণামূলক ওয়েবসাইটের সন্ধান পাওয়া যায়, যার ইউআরএল (ইউআরএল) ভারতের ভারতের সর্বোচ্চ আদালত-এর সরকারি ওয়েবসাইটের সঙ্গে অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল। অভিযোগ, প্রতারকরা ওই ভুয়ো ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ‘ডিজিটাল গ্রেফতার’-এর ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলত এবং নিজেদের আইনি কর্তৃত্বসম্পন্ন সংস্থা হিসেবে তুলে ধরত।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রির অভিযোগের ভিত্তিতে সিবিআই এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে অত্যাধুনিক ফরেন্সিক প্রযুক্তি ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের সাহায্যে সাইবার অপরাধীদের নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে। সিবিআইয়ের দাবি, এই চক্রের কার্যকলাপ শুধু ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বিদেশ থেকেও এর পরিচালনা করা হচ্ছিল।
তদন্তে আরও জানা গেছে, প্রতারকরা ভুয়ো আদালতের নির্দেশ, জাল নথি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নথির অনুরূপ নকল কাগজপত্র তৈরি করে নিজেদের প্রতারণাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলত।
তল্লাশি অভিযানে একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস, মোবাইল ফোন এবং ব্যাঙ্ক লেনদেন সংক্রান্ত নথি উদ্ধার হয়েছে। সেগুলি বাজেয়াপ্ত করে ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
সিবিআইয়ের প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে যে, শুধু ভারতীয় নাগরিকরাই নয়, বিভিন্ন দেশের মানুষও এই প্রতারণা চক্রের শিকার হয়ে থাকতে পারেন। সেই তথ্য আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির সঙ্গেও ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে।
তদন্ত এখনও চলছে এবং আগামী দিনে এই চক্রের আরও সদস্যদের গ্রেফতার করা হতে পারে বলে জানিয়েছে সিবিআই।



















