গোরখপুর, ২২ জুন : উত্তরপ্রদেশের গোরখপুর জেলায় এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর সামনে এসেছে। অভিযোগ, ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিজের দাদা, বৌদি এবং তিন বছরের ভাইপোকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। সোমবার ভোররাত প্রায় ৩টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত কিশোরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, পারিবারিক বিবাদের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। মৃতদের নাম অমিত গুপ্ত, তাঁর স্ত্রী রঞ্জনা গুপ্ত এবং তাঁদের তিন বছরের ছেলে রেয়ান গুপ্ত।
বাঁসগাঁও থানার পুলিশ অমিত গুপ্তের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করেছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে সন্দেহভাজন ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করেছে।
পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) দিনেশ পুরী জানান, ভোররাত প্রায় ৩টার সময় তিনজনকে খুনের খবর পাওয়া যায়। খবর পাওয়ার পর স্থানীয় পুলিশ এবং ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ফরেন্সিক দলও ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ করেছে।
তদন্তে জানা গেছে, অমিত গুপ্ত, তাঁর স্ত্রী রঞ্জনা এবং ছেলে রেয়ান একই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। সেই সময় অভিযুক্ত কিশোর তাঁদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে পারিবারিক বিবাদকেই সম্ভাব্য কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ফরেন্সিক রিপোর্টের ভিত্তিতে ঘটনার আরও তথ্য সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই নৃশংস ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটিতে গভীরভাবে স্তম্ভিত।
সূত্র: আইএএনএস



















