নয়াদিল্লি, ৬ আগস্ট (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের একাধিক মসজিদ থেকে পুলিশের লাউডস্পিকার অপসারণের ঘটনাকে ঘিরে বৃহস্পতিবার তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী নেতারা অভিযোগ করেছেন, উন্নয়ন ও সুশাসনের পরিবর্তে ধর্মীয় ইস্যুকে সামনে এনে রাজনীতি করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করা নয়, বরং আদালতের নির্দেশ মেনে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা।
এআইজেইউপি প্রধান তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবির বলেন, সংবিধান এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সকলের জন্য প্রযোজ্য। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশ মানতে কারও আপত্তি নেই, তবে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর উন্নয়নের বদলে লাউডস্পিকার, আজান ও পশুবলির মতো বিষয়কে বারবার রাজনৈতিক ইস্যু করা হচ্ছে।
কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরী বলেন, লাউডস্পিকার ব্যবহারের ক্ষেত্রে যদি কোনও নিয়ম থাকে, তবে তা সারা দেশে সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। কোনও একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে আইন প্রয়োগ করা উচিত নয়।
সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ইকরা হাসান অভিযোগ করেন, বিজেপির রাজনীতি হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের উপর নির্ভরশীল। তাঁর দাবি, এই ঘটনাও সেই রাজনীতিরই অংশ।
তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায় এই পদক্ষেপকে “ভুল” বলে অভিহিত করে অভিযোগ করেন, বিজেপি মুসলিমদের শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসে বাধা সৃষ্টি করতে এবং তাদের পরিচয় মুছে দিতে চাইছে। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
অন্যদিকে, বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য বলেন, এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার দায়িত্ব রাজ্য পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র দফতরের। তবে দলের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, মন্দির হোক বা মসজিদ—সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে উপাসনা করবেন, কিন্তু অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি করে শব্দদূষণ করা উচিত নয়।
বিজেপির বিহার রাজ্য সভাপতি সঞ্জয় সারাওগি বিরোধীদের অভিযোগ খারিজ করে বলেন, প্রবীণ নাগরিক ও পড়ুয়াদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করেই দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্দেশ অনুযায়ী সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সমানভাবে উচ্চ শব্দের লাউডস্পিকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মৌলানা সাজিদ রশিদি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মুসলিম সমাজ মেনে চলছে। বিশেষ করে রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত লাউডস্পিকার ও ডিজে ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ তারা অনুসরণ করছে বলেও তিনি জানান।



















